আমের মুকুল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের আমচাষিসহ গাছ মালিকরা। ভালো ফলনের আশায় আমের মুকুলে কীটনাশক ঔষধ প্রয়োগ করছেন তারা। মাত্রারিক্ত কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেলে আমের ভালো ফলন হতে বিমুখ হতে পারেন এমন আশঙ্কায় আগেভাগেই তারা পরিচর্যায় নেমে পড়েছেন বলে জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নাংলা গ্রামের ফারুক হোসেন, কলিয়া গ্রামের আছাদুরজ্জামান রাজু, কুমিরা গ্রামের আজিবর গাজী, নফর দফাদরসহ অনেকেই আম গাছে স্প্রে করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা জানান, ভালো ফলনের আশায় গাছ মালিকগণ কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে পোকামাকড় নিবারণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। আবার কেউ শ্রমের বিনিময়ে তারা গাছে বিষ প্রয়োগ করছে।
তালা সদরের কীটনাশক বিক্রেতা সরদার কবীর হোসেন জানান, চলতি বছর মুকুলের পরিচর্যা ও পোকা দমনের লক্ষ্যে কোবারিল-৮৫, ইনডোল, মিনসাইপার এবং ছত্রাকনাশক হিসেবে ওরিয়ান-৭২ ও এমিস্টোর ব্যবহার করছে আম চাষিরা। অনেকেই ডাইথেন এম-৪৫, সেভিন পাউডার ও রিপকট ব্যবহার করছেন।
গাছ মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন, আব্দুর রহমান, শহিদুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, এ বছর আম গাছগুলোতে যে পরিমাণ মুকুল ধারণ করেছে তাতে ভালো ফলন পাবে বলে আশাবাদী। অগ্রিম গাছ কেনা আম ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, আগেভাগেই ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে বাগান ক্রয় করা হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লাভ হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
তালা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সামছুল আলম জানান, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৭শ' হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হচ্ছে। কোন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলন ভাল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে আম চাষে রাজশাহীর পরপরই সাতক্ষীরা অঞ্চল খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সাতক্ষীরার আম বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে গতবছর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে এ অঞ্চলের জনসাধারণ। এ কারণে চলতি বছর আম চাষে মুকুলের অবস্থান বুঝে আম চাষিরা ভালো ফলনের মাধ্যমে অধিক পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আশাবাদী।
ইত্তেফাক/এসএস