অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবীতে দফায় দফায় বিক্ষোভে মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ ও অফিস সহকারীকে মারপিট করেছে বাগেরহাট ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার সকালে এ বিক্ষোভ হয়।
 
ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে গতকাল রবিবার রাতে মেরিন ইন্সটিটিউটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অফিস সহকারী রবিউল ইসলামকে বেধড়ক মারপিট করে ও ইন্সটিটিউটের সিসি টিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ আজ সোমবার সকাল থেকে ইন্সটিটিউটের ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। এসময় শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের পদত্যাগ দাবী করে স্লোগান দিতে থাকে এবং অধ্যক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করে। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইন্সটিটিউটের ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এসময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির শিক্ষার্থী মাহামুদ শিমুল, আব্দুল্লাহ সবুজ, প্রন্ত চন্দ্র, বাপ্পি সাহেব প্রমুখ।
 
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রিন্সিপাল সিরাজুল ইসলাম অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে হোস্টেলের রুমে ভাড়ার বিনিময়ে বহিরাগত লোকদের রাখেন কিন্তু কলেজের শিক্ষার্থীরা হোস্টেলের সিটের অভাবে বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। ইন্সটিটিউটে গ্যাস বাবদ ১লাখ ৮৪ হাজার টাকা বাৎসরিক বাজেট থাকা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ জোর করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গ্যাস বিল দিচ্ছে। ইন্সটিটিউটে পানির প্লান্ট সম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রিন্সিপালের দুর্নীতির কারণে ছাত্র/ছাত্রীরা খাবার পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পানির পাম্প পরিচালনার জন্য বাজেট থাকা সত্ত্বেও লোক নেই। ইন্সটিটিউটে ক্লিনার নিয়োগ আছে এবং তার বেতন-ভাতা প্রিন্সিপাল কর্তৃক উত্তোলন করা হলেও ক্লিনার পদে কোন লোক নেই। হাউজ কিপিং এর জন্য ৮৪ হাজার টাকা বাজেট থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদের দিয়ে জোর করে হাউজ কিপিং করানো হয় এবং এ বাবদ ছাত্রদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়। প্রতিবার ছাত্রদের স্টাইফেন/উপবৃত্তি থেকে জোর পূর্বক টাকা কাটাসহ অধ্যক্ষ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করেন এবং এসব অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদ করলেই টিসি দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়।
 
এ বিষয়ে বাগেরহাট ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, ট্রেনিং এর কারণে ঢাকাতে অবস্থান করছি। ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর শুনেছি। বাগেরহাটে ফিরে এ বিষয়ে আপনাদের বিস্তারিত জানানো হবে।
 
ইত্তেফাক/এসএস