উল্লারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

জরাজীর্ণ-ভাঙাচোরা একটিমাত্র টিনশেড ছাপড়াঘরে চলছে পাঠদান। ঘরের সামনে-পিছনে কোনো বেড়া নেই। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য কয়েকটি লম্বা বেঞ্চ, একটি টেবিল, তিনটি ব্ল্যাকবোর্ড এই দিয়ে কোনোমতে চলছে নালিতাবাড়ী উপজেলার নিভৃতপল্লির উল্লারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০০০ সালে কয়েকজন ব্যক্তি উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের অর্থায়নে জমি ক্রয় করে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন উল্লারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের শেহড়াতলী, মনকান্দা, বাঁশকান্দা, গোজাকুড়া, উল্লারপার গ্রামগুলোর শিশুদের জন্য বিদ্যালয়টি শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ৩৩ শতক জমির উপর ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি টিনশেড ঘর আর কিছু আসবাবপত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়।

২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের আওতায় আসে। ২০১৫ সালে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার সময় বৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড করে দেয় বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘরসহ আসবাবপত্র।

পরে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরামর্শে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে একচালা টিনের ছাপড়া তৈরি করে পুনরায় পাঠদান শুরু হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ ছাত্র-ছাত্রী এবং ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।

শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়টি এতটাই জরাজীর্ণ যে একটু বৃষ্টি হলেই পাশের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। সামনের ও পিছনের অংশের বেড়া এবং ছাপড়াঘরের চালের টিন ভেঙে ক্ষয়ে পড়ছে। টিনশেড হওয়ায় বেশি রোদ উঠলেও গরমে ক্লাসরুমে বসে থাকা যায় না। এক কথায় রোদ-বৃষ্টি যাই হোক ক্লাস চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এমতাবস্থায় একটি পাকাভবন না হলে পাঠদান করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আতাউর রহমান বলেন, ‘ভবনের জন্য প্রাইমারি এডুকেশন প্রপার্টিজ ম্যানেজম্যান্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বরাবর আবেদন করা হয়েছে। এখনো কোনো সাড়া পাইনি।’

ইত্তেফাক/নূহু