‘ভেজাল সার ও বীজে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক’

সারাদেশে সেচ সুবিধা ও বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে ভেজাল সার ও বীজ ব্যবহার করে প্রতি বছর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। বন্যা, খরা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিপূরণ পায় না কৃষক। ইদানিংকালে কৃষি জমি চলে যাচ্ছে লুটেরা ধনিকদের হাতে। ভূমি অফিস ও পল্লিবিদ্যুতে অবাধে চলছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। এই অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় কৃষিজমি নিঃশেষ হয়ে যাবে।
 
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় প্রেসক্লাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির নেতৃবৃন্দ এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কৃষক সমিতির সদস্য লাকী আক্তার।
 
এদিকে কৃষকদের নানাভিদ সমস্যা সিরসনের জন্য বাংলাদেশ কৃষক সমিতির ২১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এবং কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে আগামী ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি নগরীর হাদীস পার্কে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। 
 
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নিমাই গাঙ্গুলি জানান, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় হাদীস পার্কে সম্মেলনের উদ্বোধন এবং কাউন্সিল অধিবেশন পরেরদিন সকাল ১০টায় খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। প্রবীণ কৃষক নেতা আব্দুল আজিজ তালুকদার সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া জার্মানি, নেপাল ও ভারতের ৭টি সংগঠনের কৃষক নেতৃবৃন্দ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। খুলনাসহ পার্শ্ববর্র্তী বাগেরহাট, নড়াইল, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী এলাকা থেকে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সম্মেলনে উপস্থিত হবে।
 
তিনি বলেন, সম্মেলন সফল করতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এবং ট্রেড ইউনিয়ন সহযোগিতা করবে। 
 
কৃষকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভূমি ব্যবহার নীতিমালা ও কার্যকর ভূমি সংস্কার, বিএডিসিকে সচল ও বিএডিসির মাধ্যমে সস্তায় কৃষি উপকরণ ও ভাড়ায় কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ধান, গম, পাট, ভুট্টা, সবজিসহ ফসলের লাভজনক দাম প্রদান, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু করে খোদ কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়, আলু ও সবজি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ ও কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা, ভূমি অফিস ও পল্লি বিদ্যুতের অনিয়ম-হয়রানি দুর্নীতি বন্ধ করা, শস্যবীমা ও পল্লি রেশনিং চালু করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কৃষক সমিতির সহ-সভাপতি অরূপা চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ সুতপা বেদজ্ঞ প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/এমআই