নির্দিষ্ট কসাইখানা থাকা সত্ত্বেও দিনাজপুরের ফুলবাড়ি পৌর এলাকার কয়েকটি প্রধান সড়কের মোড়ে অন্তত ২০টি স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গরু-মহিষ ও ছাগলের মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। পৌর শহরের চকচকা গ্রামের অধ্যক্ষ মো. জিল্লুর রহমান, কাঁটাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবর ও পশ্চিম গৌরীপাড়া গ্রামের শ্রমিক নেতা এসএম নূরুজ্জামান জামান বলেন, লোকজন মরা গরু, মহিষ ও ছাগলের মাংস খাচ্ছে না কী রোগাক্রান্ত গরু, মহিষ ও ছাগলের মাংস খাচ্ছে, তা বোঝার কোনো উপায় নেই। পৌর কর্তৃপক্ষের দেখভাল একেবারেই নেই। সড়কে সারাদিন যানবাহন চলাচল করে তাতে ধুলাবালিতে মাংসগুলো খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, শহরের অভ্যন্তরে দু’টি স্থানে পৌরসভার নির্ধারিত কসাইখানা রয়েছে। একটি পার্বতীপুর সড়কে নদীর পাশে, অন্যটি স্বজনপুকুর এলাকার রেলঘুমটিতে। সেখানে গরু, মহিষ ও ছাগলের মাংস বিক্রির জন্য শেডও নির্মাণ করা আছে। কসাইখানা দু’টি নির্মাণে পৌরসভার বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কসাই (মাংস বিক্রেতা) বলেন , পৌরসভা থেকে অনুমতি নিয়ে তারা সড়কের পাশে দোকান বসিয়েছেন। সবাই রাস্তার পাশে মাংস বিক্রি করে, তাই তারাও করছেন। পৌরসভা বাধা দিলে কসাইখানায় চলে যাবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার বাজার এলাকায় প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গরু জবাই করা হয়। শুক্র ও সোমবার দু’দিন সাপ্তাহিক হাট বসে। হাটের দিনে ২৫টির মতো গরু জবাই হয়। এর মধ্যে নির্ধারিত কসাইখানায় তিন-চারটি গরুর মাংস বিক্রি হয়। বাকিগুলো ফুলবাড়ি-ঢাকা মহাসড়কে বাসস্ট্যান্ড এলাকা, বটতলী মোড়, নিমতলা মোড়ের পূর্ব পাশে, তৃপ্তি হোটেলের পাশে, উত্তরবঙ্গ হোটেলের পাশে, অবকাশ সিনেমা হলের সামনে, রেলগেটের চারটি স্থানে মাংস বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া পৌরসভার অন্য সড়কের জোলাপাড়া (বউবাজার), পার্বতীপুর সড়কের হাজির মোড় ও টিটিইর মোড়ে (পথচারী সেতুর পাশে) গরু, মহিষ ও ছাগলের মাংস বিক্রি করা হয়।
পৌরসভার সচিব মাহাবুবুর রহমান বলেন, পৌরসভার আগামী মাসিক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পৌরসভার মেয়র মানিক সরকার বলেন, এখানে সড়কের পাশে মাংস বিক্রির বিষয়টি নতুন কিছু নয়। আগের মেয়র এ পদ্ধতি চালু করে রেখেছেন। একবার একটি পদ্ধতি চালু হলে সেটি বন্ধ করা মুশকিল। এরপর শিগগিরই বিষয়টির একটি সুরাহা করা হবে।
ইত্তেফাক/এমআই