চাকরী আছে বেতন নাই। ঘর আছে তো বেড়া নাই। সরকারি সহায়তা বলতে বিনামূল্যের বই ছাড়া কিছুই নাই। বিষয়টি ভাবতে অবাক লাগলেও গৌরনদীর নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এটাই বাস্তব চিত্র।
২ দিন আগে সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টিতে নানা সমস্যা বিদ্যমান। একটি চৌচালা টিনের ঘরে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান চলছে। ঘরের সামনের ও পিছনের বেড়া ও জানালা-দরজাগুলো ভাংগাচোরা। যে কারণে ঝড়-বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগ বাড়ে। ওপরের টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বইখাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় গরমের সময় শিক্ষার্থীদের কষ্টের সীমা থাকে না। স্কুলের সামনে খোলা মাঠ থাকলেও বর্ষায় মাঠ পানিতে ডুবে থাকে। তখন শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের ৩য় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া গেজেট প্রকাশিত হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে চুড়ান্তভাবে বিদ্যালয়টি আজও গেজেটভুক্ত হয়নি। এ কারণে স্থানীয় অভিভাবক ও এখানে কর্মরত শিক্ষিকাদের মাঝে হতাশা ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে কুতুবপুর গ্রামে স্কুল ছিল না। তাই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল এই এলাকার মানুষ। এ কথা ভেবে কুতুবপুর গ্রামের শিক্ষানুরাগী গগন খান নামের এক ব্যাক্তি স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য ৩৩ শতক জমি দান করেন। এখানে ৪ শিক্ষিকা পাঠদান করছেন, শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫৮ জন। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ বিনা বেতনে কাজ করছেন খুকু মনি, মোসা. ফাতেমা, মোসা. ময়না নাসরিন ও সীমা আক্তার নামের ৪ নারী শিক্ষিকা।
জানা গেছে, নিজেদের টাকায় স্কুল ঘর, চেয়ার- টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করেছেন এ সাহসী ৪ নারী। দীর্ঘদিন যাবৎ বেতন না পেলেও বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ার আশায় তারা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন।
শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রত্যেক বছরের শুরুতে এইস্কুলের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সরকারি বই প্রদান করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে এখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালু করা হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টি ভিজিট করছেন নিয়মিত। তবে শিক্ষিকাদের ভাগ্যে কখন বেতন মিলবে তার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না স্থানীয় শিক্ষা অফিস।
প্রধান শিক্ষিকা খুকুমনি জানান, স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা নানা কষ্টের মধ্যে আছি। বেতন পাচ্ছি না, তার পরেও আশা ছাড়িনি। তিনি স্কুলটি দ্রুত সরকারিকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফয়সল জামিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি সরকারী করণের ৩য় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া গেজেট প্রকাশিত হয়। চুড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হলেই সরকারিভাবে শিক্ষকদের বেতন প্রদান করা হব। সেই সাথে ভবন নির্মাণসহ স্কুলের যাবতীয় সমস্যা লাঘব করা সম্ভব হবে।
ইত্তেফাক/নূহু