কুষ্টিয়ার নর্দান জুটমিলে আতঙ্কের নাম এজাজ-বাবু

 
‘প্লাষ্টিক বর্জন করুন, দেশী পণ্য পাটজাত দ্রব্য ব্যবহার করুন” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর পাটজাত দ্রব্য ব্যবহারের স্বপক্ষে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলছেন শ্রমিকরা।
 
আর এ সকল পাটজাত দ্রব্য যাতে ব্যবহার করা না হয় সেই লক্ষে কিছু কুচক্রিমহল নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কুষ্টিয়ার কুমারগাড়ার বিসিক শিল্প নগরীতে গড়ে উঠা আন্তর্জাতিক মানসম্মত নর্দান জুট মিলের ঠিকাদারদের মাধ্যমে কর্মরত ডে ভিত্তিক এ্যাসোট ও ডেইলি লেবারদের পরিশ্রমের প্রতিদিনের হাজিরা থেকে মাথাপিছু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ও এ্যাসোটদের মন প্রতি দেড় টাকা করে কর্তন করে নিতেন মিলের সাবেক ঠিকাদার কমিশনার এজাজ আহম্মেদ ও রেজাউল ইসলাম বাবু। কিন্তু বর্তমান ঠিকাদার নজরুল ইসলাম মিলের ঠিকাদারি কাজ পাওয়ার পর থেকেই শ্রমিকদের থেকে অবৈধভাবে কেটে নেয়া কমিশন বন্ধ করে দেন এবং মিলটিকে জাকজমকপূর্ণ করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।
 
এ ঘটনায় কমিশনার এজাজ-বাবুসহ অজ্ঞাত আরো ২০/৩০ জন বহিরাগত লোকজন নিয়ে মিলের কাজ বন্ধ করে দেয়। ঠিকাদারি জোরপূর্বক তাদের লিখে না দিলে মিলের কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে।
 
IMG0
 
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে জোর করে পরিশ্রমের প্রতিদিনের টাকা কেটে নিতেন এজাজ বাবু গ্রুপ।  এদিকে এজাজের দায়িত্ব অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে বিগত দিনে তার ঠিকাদারির কাজ চলে গেছিলো বলে সূত্রটি জানান। কিন্তু নতুন ঠিকাদার আসায় তারা নায্য হক বুঝে পাচ্ছে।
 
শ্রমিক সর্দার ফরিদ জানান, এজাজ ও বাবুর তান্ডবে বিগত দিনে মিলটি বন্ধ হয়ে গেছিল। শ্রমিক থেকে মালিক পক্ষ কাউকে ছাড় দিতো না তারা। সবার কাছ থেকে টাকা চাঁদা নিতো। গতকালও তারা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে শ্রমিকদের মেরে ফেলার হুমকী দিয়েছে। অন্য শ্রমিক নেতা সেলিম জানান, সাবেক বিএনপি নেতা আওয়ামীলীগে যোগদান করলেও এখনো তার থেমে নেই তার সন্ত্রাসী কর্যকালাপ। শ্রমিক নেতা জামসেদ জানান, মিলের বর্তমান ৭শত শ্রমিকের প্রতিদিনের পরিশ্রমের টাকা এজাজ কেটে নিতো। কিন্তু বর্তমান ঠিকাদার আসার পর আর সেটা করতে পারে না। তিনি বলেন, এজাজ শ্রমিকদের হুমকী দেয় যে, তার অন্য একটি রূপ আছে, মিল থেকে বেড় হলেই দেখতে পাবি। ফলে শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মিলের ঠিকাদার নজরুল ইসলাম জানান, গত নভেম্বর এর প্রথম সপ্তাহ থেকে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। তিনি তার সততার সাথে দায়িত্ব পালন করার কারনে শ্রমিকরা আজ তার কাছে সন্তষ্ঠ। ফলে শ্রমিকরা ভালো ভাবে দেশরত্ন শেখ হাসিনার পাটজাত দ্রব্য ব্যবহারের যে নির্দেশনা রয়েছে তা পালন করে চলছে। কিন্তু বিএনপি জামায়াত থেকে সদ্য আওয়ামীলীগে যোগদানকারীরা আজ মিলকে লোকশানে ফেলতে নানা কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। মিলের সাবেক ঠিকাদার কমিশনার এজাজ জানান, তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। মার্চে এমপি মহাদয় ডিড করে দিয়েছেন তখন যাবো। সেখানে কাজ করছে বাবু ও নজরুল এর লোকজন। কোম্পানী দেয় ৩৩০ টাকা আমরা দিয় ৩০০ টাকা ৩০ টাকা কমিশন ফলে সে টাকা নেওয়ার কোন অযৌক্তিক নয়। তবে আর এক ঠিকাদার বাবুর মুঠো ফোনে বার বার ফোন করে বন্ধ পাওয়া যায়। মিলের ডিজিএম আব্দুর রহমান জানান, ঠিকাদারীদের নিয়ে জটিলতার কারনে মিলটির সমস্যা হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে জিডি করা হবে। কালকে(আজকে) মিলের এমডি আসলে জিডি করা হবে। মিলটি রক্ষায় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তবে সকলের দাবী কোন চাঁদাবাজরা যেন মিলের দায়িক্ব না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত।
 

ইত্তেফাক/এএম