বইমেলা শুধু ঢাকায় নয় সারাদেশের মানুষের মাঝেই আলোড়ন তোলে। সারাদেশের পাঠকরা এই মেলাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় আসেন। শুধু বই কিনতে নয় বরং এ উত্সবে অংশ নিতে। ‘এ এমন এক আবেগ যা বলে বোঝানো যাবে না’- বলছিলেন গাইবান্ধার ব্যবসায়ী এনামুল সিকদার। ব্যবসার কাজে ঢাকায় এসে চলে এসেছেন বইমেলায়। এনামুলের মত সারাদেশ থেকেই আসছেন পাঠকরা। এদিকে শুধু পাঠকরাই নন বইমেলাকে কেন্দ্র ঢাকার বাইরের প্রকাশকরাও আসছেন বইমেলায়। বইমেলায় যাতে স্থান পায় সেজন্য ঢাকার বাইরের জেলা শহরগুলোতে যেসব লেখকরা বাস করেন তারাও প্রকাশ করেন বই।
গতকাল মেলায় এমন এক প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানের আটটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান হলো। রংপুরের প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান আইডিয়া প্রকাশনী মেলায় প্রকাশ করেছে আটটি বই। এর মোড়ক উন্মোচন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সংস্কৃতিমন্ত্রী বই কিনবার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বই কেনার চর্চা না বাড়ালে সংস্কৃতির অগ্রগতি হবে না।
নতুন বই: বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মেলার ১৮তম দিনে নতুন ১৩৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— পারভেজ হোসেনের ‘বাংলাদেশের ছোটগল্প’ (নবযুগ); মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘ইউনুস এমরের কবিতা’ (পাঞ্জেরি); প্রভাষ আমিনের ‘স্বর্গ নেই, আছে উপসর্গ’ (অন্যপ্রকাশ); আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘রকমারি রচনা’ (রাত্রি) ও জাকির তালুকদারের ‘উপন্যাস চতুষ্টয়’ (পুঁথিনিলয়)।
মূলমঞ্চের আয়োজন:গতকাল অনুষ্ঠিত হয় ‘এ এফ সালাহ্উদ্দীন আহ্মদ মুজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী এ কে নাজমুল করিম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুনতাসীর মামুন, মীজানূর রহমান শেলী এবং সোনিয়া নিশাত আমিন। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর।
মুনতাসীর মামুন বলেন, অধ্যাপক সালাহ্উদ্দীন আহ্মদ বাঙালির ইতিহাসচর্চার এক অনন্য পুরোধা-ব্যক্তিত্ব। ড. মীজানূর রহমান শেলী বলেন, অধ্যাপক মুজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী ছিলেন গুণী শিক্ষক, পন্ডিত এবং পরিশ্রমী লেখক। সোনিয়া নিশাত আমিন বলেন, ড. করিম সম্ভবত উপমহাদেশের সেই পথিকৃত্ সমাজবিজ্ঞানী যিনি সমাজবিজ্ঞানের প্রয়োগপদ্ধতি নিয়ে বিশদ কাজ করেছেন।
অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর বলেন, এই তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বাঙালি মুসলমানের সমাজবিকাশের ধারাকে তাত্ত্বিকভাবে চিহ্নিত করেছেন এবং একই সঙ্গে প্রায়োগিক দিশা প্রদানের কাজটিও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন।
ইত্তেফাক/নূহু