হবিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়লে অন্তত ৪০ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জি কে গউছ। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে পুলিশি নির্যাতন ও গ্রেফতার আতংকে আহত বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করার উদ্দেশ্যে সকালে শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা জড় হন। সকাল ১১টায় নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলে করতে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জি কে গউছকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তাকে আটক করে টেনেহেঁচড়ে নিয়ে গেলেও পরে ছেড়ে দেয়। সংঘর্ষের সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে বিজয় টিভির জেলা প্রতিনিধি ইলিয়াছ আলী মাসুকসহ অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আহত হন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জি কে গউছ জানান, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকালে বিক্ষোভ কর্মসূস পালন করতে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হন। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে নেতাকর্মীরা আসেন। কোন উত্তেজনা বা উস্কানি ছিলনা। প্রতিটি কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণভাবে হবিগঞ্জে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) নেতাকর্মীরা যখন দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হচ্ছিলেন তখনই হঠাৎ পুলিশ আক্রমন চালায়। নেতাকর্মীদের উপর গুলি ছুড়তে থাকে। অন্তত ২শ’ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ। এখন চিকিৎসা নেয়ারও সুযোগ দিচ্ছেনা। নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে। জি কে গউছ অভিযোগ করেন, হামলার সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ক্রস ফায়ার করার হুমকি দিয়েছেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াছিনুল হক জানান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছের নেতৃত্বে একটি মিছিল আসে। তারা এসেই পুলিশকে ঠেলা ধাক্কা দেয় এবং উদ্বত আচরণ শুরু করে। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার রাস্তায় না আসতে বলা হয়। কিন্তু তারা শুনেনি। দলবল নিয়ে রাস্তা এসে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তখন পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ৫৪ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের হামলায় এসআই মুসলেহ উদ্দিনসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ইত্তেফাক/কেকে