একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কাছে একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সুপরিচিত থাকলেও বাংলাদেশের কাছে এর আবেদন আরো অনেক বেশি। এ জন্য এদিন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমরা ছুটে যাই শহীদ মিনারে। কিন্তু রাজবাড়ী জেলার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই আদর্শে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শহীদ মিনার অদ্যাবধী বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠেনি।
রাজবাড়ী জেলার ৫টি উপজেলার ৭৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৫শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নাই। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিনে এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদদের প্রতি ঠিক মতো শ্রদ্ধা জানাতে পারেন না। কোন কোন প্রতিষ্ঠান নিকটবর্তী শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ বা অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করলেও বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই দিনগুলোতে কার্যত ছুটির আমেজে কাটে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পারমিস সুলতানা জানান, উপজেলার ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০টি ও ৫টি কলেজের ২টিতে স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে। এছাড়া যার মধ্যে ২২টি মাধ্যমিক, ১৯টি মাদ্রাসা ও ৩টি কলেজে স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। সদর উপজেলার শিক্ষা অফিসার নাসরিন আক্তার জানান, সদর উপজেলার আওতাধীন ১৩৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যার মধ্যে ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার থাকলেও বাকী ১১৫টি প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি এখন।
গোয়ালন্দ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমান জানান, উপজেলার ৪টি কলেজ, ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৮টি মাদ্রাসা রয়েছে। যার মধ্যে ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করা রয়েছে। এছাড়া উপজেলার ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও ৮টি মাদ্রাসায় স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আ. মালেক জানান, উপজেলা ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছে। বাকী ৪৪টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নেই।
বালিয়াকান্দি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, উপজেলার ৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬টি কলেজ ও ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি মাধ্যমিক ও ১২টি মাদ্রাসায় কোন শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, উপজেলার ৯৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মান হয়েছে। বাকী ৮৪টি বিদ্যালয়ে কোন স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি।
কালুখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী এজাজ কায়সার জানান, উপজেলার ২৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯টি বিদ্যালয়ে, ১১টি মাদ্রাসার ১টি মাদ্রাসায় এবং ৩টি কলেজে শহীদ মিনার রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি মাধ্যমিক ও ১০টি মাদ্রাসায় স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আ. রশিদ জানান, উপজেলার ৭৬টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে। বাকী ৫৯টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি।
পাংশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস.এম নাসিম আক্তার জানান, উপজেলাতে ৩৭টি মাধ্যমিক, ২৫টি মাদ্রাসা ও ৯টি কলেজ রয়েছে। নতুন যোগদান করেছি- আমার জানা নেই কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. বছির উদ্দিন জানান, ১২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার রয়েছে। উপজেলাতে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নির্মান হয়নি।
রাজবাড়ী জেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান জানান, যে সকল প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নেই আমরা চাই অতি দ্রুত সে সকল প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার নির্মিত হোক। আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করবো। মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে কোনো জাতিই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না, পারে না নিজের পরিচয়কে পৃথিবীতে উজ্জ্বল করে প্রকাশ করতে। তাই আমাদের প্রজন্মকে ২১ ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে হবে।
ইত্তেফাক/এমআই