শিমুল বিশ্বাস তৃতীয় দফায় ৫ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর রমনা থানার নাশকতা ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা প্রদানের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে তৃতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত দশদিন দুই দফায় রিমান্ডে রাখা হয় তাকে। 
 
দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় শাহবাগ থানার নাশকতার একটি মামলায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
 
এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি রমনা থানার নাশকতার মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী। এছাড়া ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদার শাহবাগ থানার নাশকতার মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডের নেয়ার আদেশ দেন।
 
শিমুল বিশ্বাসের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ রিমান্ডের বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন। যে মামলায় রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে সেই ঘটনায় শিমুল বিশ্বাস জড়িত নন।এই মামলায় তার নামও নেই। তাকে পরপর দুই দফায় দশদিন রিমান্ডে রাখার কারণে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে তাকে আর রিমান্ডে না নেয়ার জন্য। শিমুল বিশ্বাসকে এর আগে দশদিনের রিমান্ডে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি শিমুল বিশ্বোসের জামিন চাইলে আদালত তা নাকচ করে ৫ দিনের রিমান্ডে দেন।
  
এদিকে মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অবিলম্বে শিমুল বিশ্বাস এর রিমান্ড বাতিল করে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা আমলে না নিয়ে দশ দিনের টানা রিমান্ড শেষে আবারও ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে। এটি সরকারের ভয়ঙ্করতম নিপীড়ণের একটি দৃষ্টান্ত। পৈশাচিক উৎপীড়ণ করে মিথ্যা জবানবন্দী আদায়ের চেষ্টা করছে সরকার। শিমুল বিশ্বাসের কাছ থেকে তাদের শেখানো বুলি আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অবিরামভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে। 
 
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়ের পরপরই আদালত প্রাঙ্গণ থেকে শিমুল বিশ্বাসকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। 
 
ইত্তেফাক/এমআই