বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, নিজের দলের কথা ভাবুন। ক্ষমতার বাইরে গেলে আপনাদের কী হবে তা একবার ভাবুন। কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন সেটাও একবার ভাবুন। শুধু শুধু সস্তা বক্তব্য দেয়ার কী দরকার, আসল জায়গায় আসুন। নিজেদের চরকায় তেল দেন। নিজের পার্টির অবস্থা দেখুন। সংলাপে বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অহংকার, দাম্ভিকতা বাদ দিয়ে দেশকে রক্ষার জন্য, চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য দেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। আলোচনায় বসে কীভাবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে এর ব্যবস্থা করুন।
মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, সরকার ছলচাতুরি করে টিকে আছে। তাদের কাছে শক্তি আছে, অস্ত্র আছে, রাষ্ট্রযন্ত্র আছে। এগুলো দিয়ে যারা বিরোধী মতে কথা বলছে তাদের দমন করছে।
তিনি বলেন, আমাদের গঠনতন্ত্র নিয়ে আপনাদের ঘুম নেই। আমরা কাকে চেয়ারপারসন করলাম, কি করলাম না; তা নিয়ে আপনাদের মাথাব্যথা। আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হয়েছেন। গঠনতন্ত্রে এই বিষয়টি আছে যে, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন। এটা নিয়ে আপনাদের উদ্বেগ সন্দেহজনক।
সরকার একদলীয় শাসনের দিকে যাচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্পষ্ট করে বলতে চাই, এদেশের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে গণতেন্ত্রর জন্য লড়াই করছে। এতো সহজ মনে করবেন না যে পার পেয়ে যাবেন, দেশের স্বাধানীতা-স্বার্বভৌমত্ব নিয়ে খেলা করতে পারবেন। আমাদের মুখ বন্ধ করতে পারবেন। কিন্তু ষোল কোটি মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, সরকার পূর্বপরিকল্পিতভাবে নীলনকশা চরিতার্থ করার জন্য আদালতের ওপর ভর করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে নিয়েছে। পুরো দেশই এখন কারাগার। থানা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে অসংখ্য গণতন্ত্রকামী মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। শুধু গতকালই হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছে প্রায় ৭’শ। সরকার নিম্ম আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, যে রায়ের কপি পাঁচ দিনে পাওয়ার কথা সেটি ১২ দিনে পাওয়া গেলো। গণতন্ত্রের জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে।
এনপিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জাগপার রেহেনা আক্তার প্রধান, সাম্যবাদী দলের কমরেড সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।
এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল বলেন, তার মুক্তির জন্য আমাদের সবাইকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে স্বোচ্ছার হতে হবে প্রতিবাদ করতে হবে এবং আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই তাকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে। আজ ১২ দিন হতে চলেছে বেগম খালেদা জিয়া এখন সেই নাজিম উদ্দীন রোডের পরিত্যক্ত অন্ধকার কারাঘারের প্রকোষ্ঠে বন্দি হয়ে আছেন। আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাধীনতা স্বার্ভমৌত্বকে রক্ষার জন্য যিনি আজীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন সেই নেত্রীকে আজ কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই