খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১মিনিটে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে খুলনা মহানগর ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, খুলনা জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সিটি করপোরেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি), সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ,  সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, খুলনা প্রেসক্লাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।
 
ভোর ছয়টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, প্রভাত ফেরি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। 
 
সকাল নয়টায় নগরভবনে সিটি করপোরেশনের আয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে ভাষা শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জোহর খুলনা কালেক্টরেট জামে মসজিদসহ নগরীর সকল মসজিদে শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া কামনা এবং মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপসনালয়ে অনুরূপ বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
স্থানীয় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জিলা স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনে খুলনার অবদান’ এর তাৎপর্য তুলে ধরে যথাক্রমে ৩টি বিভাগে অনুর্ধ্ব ৩০০ শব্দ এবং ৫০০ শব্দের রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। 
 
বিকেল চারটায় ভাষা আন্দোলনে অমর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নগরীর বয়রাস্থ বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অমর একুশের বইমেলা প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় শহীদ হাদিস পার্কে এবং জাতিসংঘ শিশু পার্কে খুলনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও একুশের পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন এবং  সিনেমা হল সমূহে সিনেমা স্লাইড প্রদর্শন এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 
 
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্থানীয় পত্রিকাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বাংলা বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হয়।
 
ইত্তেফাক/এমআই