প্রযুক্তি যেভাবে বাঁচিয়ে দিল জীবন

 
ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি সম্পর্কে আমরা প্রচুর নেতিবাচক কথা শুনি। তবে প্রযুক্তি যে ভালো কিছুও হতে পারে এটা তার একটা উদাহরণ। ফেসটাইম ভিডিওতে এক নারী তার বোনের সাথে কথা বলছিলেন। সে সময় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং সেটি তার বোনের চোখে পড়ায় তার জীবন বেঁচে গেছে। সুস্থ হয়ে উঠার পর  তিনি বলেন, প্রযুক্তি তার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে।
 
৫৮ বছর বয়সী ওপুকোয়া কোয়াপং নামের ওই নারী একা থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের একটি বাড়িতে। সেখান থেকে তিনি কথা বলছিলেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার শহরে বসবাসকারী তার বোন আদুমেয়া সাপোং-এর সাথে। তখন মিসেস সাপোং তার বোনের মুখে এক ধরনের পরিবর্তন দেখতে পান। তার কাছে মনে হয় যে তার বোন আসলে দেখতে যেরকম তাকে ঠিক সেরকম দেখাচ্ছে না। তার বোনের কণ্ঠ ভেঙে পড়ছে - এটা টের পাওয়ার পরপরই তিনি একটা ব্যবস্থা নেন যা তার বোনকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
 
মিসেস সাপোং বলেন, আমি তাকে বললাম, তোমার হয়তো এসপিরিন খেতে হবে। সে একটা গ্লাস হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু পারছিলো না। তখন আমি ফেস টাইম ভিডিও কলে দেখলাম যে তার মুখ বাঁকা হয়ে ঝুলে পড়ছে। আমি তখন ফোন রেখে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে বলি।
 
কোয়াপং তখন ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। তারপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্ক্যান করে দেখা যায় তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। এই স্ট্রোকের পর তার শরীরের বাম দিক অবশ হয়ে গেছে।
 
কোয়াপং, যিনি নিজেও একজন খাদ্য বিজ্ঞানী, বলেছেন, ফেসটাইম যে আমার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমার বোন যদি এটা লক্ষ্য না করতো, তাহলে পরিস্থিতি অন্য রকমও হতে পারতো।
 
তিনি বলেন, যেহেতু তিনি খুব বেশি চলাফেরা করতে পারেন না সেকারণে তিনি ভিডিও কনফারেন্সিং-এর উপর অনেক বেশি নির্ভর করে থাকেন।
IMG0
নিউ ইয়র্ক শহরের একটি বাড়িতে একা থাকেন ওপুকোয়া কোয়াপং
স্ট্রোকের ব্যাপারে লোকজনকে সচেতন করতে কাজ করছেন এমন একজন এসমি রাসেল বলেন, যে কারোরই স্ট্রোক হতে পারে, যেকোনো বয়সে, যেকোনো সময়ে এটা হতে পারে। সেকারণে মানুষকে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তখন হয়তো জীবন বাঁচানোও সম্ভব হতে পারে।
 
মস্তিষ্কের কোনো একটা অংশে রক্ত জমাট হয়ে তার প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে কিম্বা রক্তক্ষরণের কারণে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়।বিবিসি
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ