যশোরের কেশবপুর পৌরসভার বায়সা এলাকার আলোচিত গুলিতে গুরুতর আহত সেই স্কুলছাত্রীর পরিবারটিকে হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকায় ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও একটি জিডিও গ্রহণ না করায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ বখাটে ও মাস্তানদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বাধ্য করে। ফলে শেষ পর্যন্ত দরিদ্র পরিবারটি ন্যায় বিচার পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, পৌরসভার বায়সা এলাকার ইঞ্জিন চালিত করিমন চালক আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্রী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া আসার পথে একই গ্রামের মৃত আহম্মদ মোড়লের সিংগাপুর প্রবাসী ছেলে বখাটে আব্দুস সাত্তার তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। এরই প্রতিবাদ করায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আব্দুস সাত্তার একটি এয়ারগান নিয়ে প্রতিবেশি আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে যান।
মেয়েটির মা মনিরা বেগম জানান, সাত্তার যখন তাদের বাড়িতে ঢুকেন তখন তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ঘরের বারান্দায় বসে সকালের খাবার খাচ্ছিল। এ সময় সাত্তার উদ্দেশ্য মূলকভাবে তার মেয়ের পিঠে এয়ারগান ঠেকিয়ে গুলি করেন। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে তাকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে তাকে যশোর কুইন্স হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করে শরীর থেকে গুলি বের করা হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি তার মেয়েকে বাড়িতে নেয়া হলেও সে এখনও স্বাভাবিক হতে পারেনি। এ ঘটনার পর থেকে আব্দুস সাত্তার বাড়ি-ঘরে তালা দিয়ে স্বপরিবারে গা ঢাকা দিয়েছে।
সাবদিয়া-বায়সা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুকুল হোসেন জানান, আব্দুস সাত্তার বিএনপির একজন সক্রিয় ক্যাডার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক রটে গেলে কেশবপুর থানার এএসআই শ্যামল সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ দুই দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও করিমন চালক পরিবারটি কোনো আইনগত সহায়তা পাননি। এমন কি এ ঘটনায় ন্যূনতম একটি জিডিও করানো হয়নি।
তবে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে, আব্দুস সাত্তার লাখ লাখ টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নামলেও করিমন চালককে হুমকি দিয়ে মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে গ্রামটি পরিদর্শনকালে আব্দুস সাত্তারের বাড়ি-ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। এ সময় তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।পরবর্তীতে মেয়েটির বাড়িতে যাওয়া হলে প্রথমে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। ওই পরিবার অজানা আতঙ্কে ভয়ে ভয়ে দিন কাটাছে।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শাহজাহান আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ না করলে আমার করার কিছুই নেই।
ইত্তেফাক/কেকে