গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগে সংকট বাড়ছে

 
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় পাল্টা-পাল্টি ছাত্রলীগের কমিটি গঠন ও অনুমোদন নিয়ে ক্রমেই সংকট বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক গোয়ালন্দ উপজেলার বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত না করেই একক ভাবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি কমিটি অনুমোদন দেয়।
 
এতে সভাপতি পদে মেদেহী হাসান রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক পদে আবু বক্কর খোকনকে নির্বাচিত করা হয়। এর পাল্টা-পাল্টি জেলা ছাত্রলীগ শনিবার আলাদা কমিটির অনুমোদন দিলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ একে গঠনতন্ত্র বিরোধী বলে রবিবার দুপুরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
 
জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগকে পাশ কাটিয়ে এভাবে কমিটি দেয়া নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ১২ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলীর উদ্যোগে জেলা ছাত্রলীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা ছাত্রলীগ যৌথসভা করে ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
 
এ অবস্থার মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জাকারিয়া মাসুদ রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম এরশাদের যৌথ স্বাক্ষরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শনিবার গোয়ালন্দ উপজেলা, গোয়ালন্দ পৌরসভা ও গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা বিলুপ্ত ঘোষণা করে। সেই সাথে ৩টি ইউনিটে নতুন তিনটি কমিটি করে এক বছরের জন্য অনুমোদন দেয়। রবিবার দুপুরে নতুন কমিটির নেতাকর্মীরা শহরে আনন্দ মিছিল ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
 
এতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে পূর্বের কমিটির সহ-সভাপতি নাজিমুল ইসলাম বৃটেন, সাধারণ সম্পাদক পদে অপর সহ-সভাপতি মো. তুহিন দেওয়ানকে নির্বাচিত করা হয়। পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটিতে সভাপতি পদে আলামিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক পদে রাতুল আহম্মেদ এবং কামরুল ইসলাম সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিতে সভাপতি পদে মুনছুর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পদে বাবু মন্ডলকে নির্বাচিত করা হয়।
 
জেলা ছাত্রলীগের এ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের যৌথ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিজস্ব ওয়েবসাইডে।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জাকারিয়া মাসুদ রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম এরশাদ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করে শনিবার গোয়ালন্দ উপজেলা, গোয়ালন্দ পৌরসভা ও গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম সরকারি কলেজ শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণদর্শাতে বলা হয়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবিএম বাতেন বলেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা কমিটি আগে আমাদের কমিটিকে বিলুপ্ত করবে এবং নতুন কমিটির গঠন করে অনুমোদন দিবে। জেলা কমিটি ঠিক তাই করেছে। আমরা এটা মেনে নিয়েছি। কেন্দ্রীয় কমিটি এটা না করে এককভাবে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয়ায় সংগঠনের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
 
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জাকারিয়া মাসুদ রাজিব বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দেয়া কারণদর্শানো নোটিশ পেয়েছি। যথা সময়ে এর জবাবও দেয়া হবে। এর আগে এ বিষয় নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি