ফাঁস হওয়া প্রশ্নে অনুষ্ঠিত এসএসসির পরীক্ষা বাতিলের সম্ভাবনা নেই। এমনকি কমিটির প্রধান কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর তাদের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রশ্নফাঁসের প্রমান পাওয়ার কিছুটা ইঙ্গিত দিলেও রবিবার তৃতীয় বৈঠকে সেখান থেকে সরে এসেছেন।
সভা শেষে মো. আলমগীর পরীক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০ লাখ শিক্ষার্থীর স্বার্থের কথা চিন্তা করেই আমরা সুপারিশ করব, সরকারও তাদের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নেবে। যারা পরীক্ষা দিয়েছে তারা তো আমাদেরই সন্তান। আমরা এমন কোনো সুপারিশ করব না যেটা তাদের জন্য ক্ষতি হবে।
সচিবালয়ে পরিবহন পুল ভবনে সভাশেষে কমিটি প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো আমরা পর্যালোচনা করেছি। এসবের প্রমাণ হিসেবে বোর্ড, পুলিশ ও বিটিআরসির কাছে তথ্য-উপাত্ত চেয়েছিলাম, সেগুলো পর্যালোচনা করেছি। তবে যে সুপারিশ করব তা গোপনীয়।
পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ থাকবে কি না- এমন প্রশ্ন করলেও সুস্পষ্ট কোনো জবাব দেননি সচিব মো. আলমগীর। তিনি বলেন, কোনো বিষয়ের রচনামূলক প্রশ্ন ফাঁস হয়নি, কিছু কিছু এমসিকিউ অংশ মিলেছে। তাই আমি বাতিল হবেও বলব না, বাতিল হবে না সেটাও বলব না। তবে উদ্বিগ্ন থাকার কারণ নেই। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রায় প্রতিটি বিষয়েই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় মনিটরিং এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির জরুরি সভায় প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে কীনা তা যাচাই করতে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এতে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও বিটিআরসি প্রতিনিধি, সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিদের ওই কমিটিতে রাখা হয়।
ইত্তেফাক/ইউবি