অবশেষে রূপগঞ্জ থানার সেই বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ইসমাইল হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রবিবার রাতে তাকে রূপগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। তার স্থলে নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করেছেন মনিরুজ্জামান। তিনি ময়মনসিংহ জেলা থেকে এসেছেন।
কি কারণে ইসমাইল হোসেনকে আকস্মিক প্রত্যাহার করা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে সম্প্রতি ওসি ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে বলা হয় ছাত্রদলের নেতা পরিচয়ে ইসমাইল হোসেন পুলিশে যোগ দেন।
সূত্র জানায়, ইসমাইল হোসেন ১৯৯৩ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এসআই পদে। তখন চাকরির জন্য সুপারিশ করেছিলেন কাঞ্চন পৌর এলাকার বিএনপি নেতা ও তাঁর ভগ্নিপতি করমউদ্দিন। চাকরির জন্য সুপারিশপত্রে স্পষ্ট পরিচয় উল্লেখ ছিল ইসমাইল নরসিংদী সরকারি কলেজের শাখা ছাত্রদলের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক। বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মতিন চৌধুরীর মাধ্যমে তিনি চাকরিতে যোগদান করেন। সম্প্রতি ওসি ইসমাইল একটি বিলাসবহুল গাড়ি নিয়েছেন আবাসন কোম্পানি প্রাইম রিভারভিউ থেকে। তাঁর গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর শিলমন্দিতে। সেখানে ইতিমধ্যে নামে-বেনামে ৫৬ বিঘা সম্পত্তি কিনেছেন। উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের সুবাস্তু টাওয়ারে রয়েছে তাঁর কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে রূপগঞ্জ এলাকায় ১৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রূপগঞ্জ জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এম এ হাসান, কাঞ্চন পৌর যুবলীগের নেতা মিজানুর রহমান ও ভুলতা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন হত্যাকাণ্ড। এ ছাড়া এলাকায় বেড়েছে ডাকাতের উপদ্রব। দিনদুপুরে ডাকাতি হলেও নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় পুলিশ। জঙ্গি তৎপরতা রোধেও ব্যর্থ রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।
কার্যত ইসমাইল হোসেনের কর্মে ব্যর্থতা ছাড়া সফলতা কম। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভূঁইয়া রানু বলেছেন, ‘ছাত্রদলের ইসমাইল এখানে ওসি হিসেবে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা চরমভাবে নিষ্পেষিত হচ্ছে।’
ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হারেস বলেন, ‘ওসি সাহেবের আপন ভাই ওমর আলী। ওমর যখন কোথাও যান ভয়ে কেউ কথা বলতে পারেন না। এখানে জমি না কিনেও অনেক ডেভেলপার ওসির ছত্রছায়ায় অন্যের জমি দখলে নিচ্ছে বালু ফেলে।’
রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি খন্দকার আবুল বাশার টুকু বলেন, মাদক-হেরোইনে ছেয়ে গেছে রূপগঞ্জ। এই ওসি এবং সংসদ সদস্য মিলে যুবসমাজ ধ্বংস করছেন।
সূত্র মতে, ওসি ইসমাইল বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক। নিয়মিত বখরা পান তিনি উপজেলার দেড় শতাধিক অবৈধ ইটভাটা আর শীতলক্ষ্যায় চলাচলরত বালুবাহী ট্রলার থেকে। থানা এলাকায় বিভিন্ন আবাসন কম্পানিকে নির্বিঘ্নে কাজ করতে হলে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় ওসিকে।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হাফিজুর রহমান সজিব বলেন, ‘এমপির সব অপকর্মে সহযোগিতা করেছেন ওসি। কয়েক শ’ হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি দখলে ওসি সহযোগিতা করেছেন এমপি ও তাঁর সহযোগীদের।’
রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রায় ৯ বছর দায়িত্ব পালনকালে ওসি ইসমাইল আওয়ামী লীগের অন্তত তিন হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান ভুঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগকে ঘায়েল করার জন্য এমপি গাজীর নেতৃত্বে ওসি বিভিন্নভাবে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছেন।’
এ ব্যপারে পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, স্বাভাবিক নিয়মেই বদলী করা হয়েছে তাকে। তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। থানা থেকে আমাকে সরাতে এই চক্রান্ত।’