রাজনীতি তো সব খানেই। অফিসে, আদালতে, ব্যবসায়। আর রাষ্ট্র ক্ষমতা নিয়ে রাজনীতি তো হাজার বছর ধরে চলছে। সেসব ইতিহাস, বর্তমান রাজনীতির হালচাল— এ সব বিষয়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সহজাত। বইমেলায় তাই রাজনীতির বইয়ের কাটতি ভালোই।
আগামী প্রকাশনী, মাওলা ব্রাদার্স থেকে রাজনীতি বিষয়ক প্রচুর বই প্রকাশ হয়েছে। রাজনীতির বইয়ের বিক্রি কেমন এমন প্রশ্নের উত্তরে আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনি বলেন, ‘রাজনীতি বিষয়ক বই সব প্রকাশনা থেকে প্রকাশ হয় না। কারণ, রাজনীতি বিষয়ক বইয়ের কাটতি নানা সময়, উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে। আমরা সবসময় রাজনীতি বিষয়ক বইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেই। সারা বছরই এ ধরনের বইয়ের পাঠক পাওয়া যায়।
মেলায় রাজনীতির বইয়ের কিছু তালিকা
সময় প্রকাশন এনেছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ‘সংকট ও সুযোগ’, প্রথমা থেকে প্রকাশ হয়েছে মহিউদ্দিন আহমদের ‘আওয়ামী লীগ: যুদ্ধদিনের কথা ১৯৭১’, একই প্রকাশনা থেকে এই লেখকের আরেকটি বই ‘এই দেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল’, মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর ‘বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল: অবরুদ্ধ ৬৮ বছর’, আগামী প্রকাশনী থেকে ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পথচলা’, অনন্যা থেকে অধ্যাপক আবু সাইয়িদের ‘ইতিহাসের দায়ভার এবং একজন আদুরী’, একই প্রকাশনী থেকে ড. আবদুল লতিফ মাসুমের ‘সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি’, গোলাম মাওলা রনির ‘ইতিহাসের নির্মম প্রতিশোধ’, শোভাপ্রকাশ এনেছে তারেক শামসুর রেহমানের ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ’, মাওলা ব্রাদার্স এনেছে কাবেদুল ইসলামের ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা’, ঐতিহ্য এনেছে মনজুরুল হক রচিত ‘পূর্ব বাংলার সাত দশকের কমিউনিস্ট রাজনীতি’, একই প্রকাশনী থেকে মোঃ নূরুল আনোয়ারের ‘মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড: দুর্যোধনটি কে?’, বিপ্লবীদের কথা থেকে প্রকাশ হয়েছে আহমদ রফিকের ‘ইলা-রমেন কথা: প্রাসঙ্গিক রাজনীতি’, একই প্রকাশনী থেকে রণেশ দাশগুপ্তের অনুবাদে ‘জিজ্ঞাসা’, শান্তি দাশের ‘অরুণ-বহ্নি’, লক্ষ্মী চক্রবর্তী ও শেখ রফিকের সম্পাদনায় ’৭১ (তৃতীয় খণ্ড), বাঁধন পাবলিকেশন্স থেকে মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসির ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে আওয়ামী লীগের ভূমিকা’, ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ এনেছে মোহাম্মদ শাহজাহান সম্পাদিত ‘ক্রান্তিকালের সফল কাণ্ডারি’, অন্যপ্রকাশ এনেছে পিয়াস মজিদের ‘রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ ও অন্যান্য’।
মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান
গতকাল বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ১০৭টি নতুন গ্রন্থ। এ দিকে, গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল ভাষাসংগ্রামী নাদেরা বেগম, ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম এবং একুশের শহীদ মিনারের অন্যতম রূপকার নভেরা আহমেদ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। নির্ধারিত প্রবন্ধকার রামেন্দু মজুমদার বিদেশে অবস্থান করায় তার লিখিত ভাষাসংগ্রামী নাদেরা বেগম প্রবন্ধটি পাঠ করেন ত্রপা মজুমদার। ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিউর রাব্বি এবং একুশের শহীদ মিনারের অন্যতম রূপকার নভেরা আহমেদ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেজাউল করিম সুমন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফি আহমেদ এবং মালেকা বেগম। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, নাদেরা বেগম ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় আত্মগোপনে থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। আমাদের ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্বের ইতিহাসে এক সাহসী ও সংগ্রামী নারী হিসেবে নাদেরা বেগমের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
রফিউর রাব্বি বলেন, ভাষা আন্দোলনে যেসব নারীদের নাম উচ্চারিত হয়ে থাকে তাঁদের মধ্যে মমতাজ বেগম সর্বাগ্রে। এটি শুধু নারায়ণগঞ্জের প্রশ্নে নয়, দেশের সামগ্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
শফি আহমেদ বলেন, মমতাজ বেগম, নাদেরা বেগম এবং নভেরা আহমেদের মতো বীর নারীরা শুধু ভাষা আন্দোলনে নয়, একই সঙ্গে এই দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনেই শক্তি যুগিয়েছেন।
মালেকা বেগম বলেন, এই নারীরা শুধু ভাষা আন্দোলনের সময়পর্বেই নয় বরং বহু আগে থেকে ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছেন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ভাষা আন্দোলনে নারী-পুরুষ সবারই গৌরবজনক অংশগ্রহণ ছিল।
ইত্তেফাক/নূহু