ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে খসড়া ডিপিপি করে একনেকে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি খুব দ্রুত একনেকে অনুমোদন দেবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দু’-এক মাসের মধ্যে প্রকল্পটি একনেকে পাস হলে ২০১৮-১৯ (জুলাই-জুন) অর্থ বছরের শুরুতেই উন্নয়ন কাজ শুরু করা যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে চায় সিটি করপোরেশন।
সংশ্লিষ্ট তথ্য মতে, ২০১৬ সালের ৯ মে নিকার সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আটটি করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া ৮টি ইউনিয়নকে ভেঙ্গে ১৮টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে বাড্ডা ইউনিয়নকে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, ভাটারাকে ৩৯ ও ৪০, সাঁতারকুলকে ৪১, বেরাইদকে ৪২, ডুমনিকে ৪৩, উত্তরখানকে ৪৪, ৪৫ ও ৪৬, দক্ষিণখানকে ৪৭, ৪৮, ৪৯ ও ৫০ এবং হরিরামপুরকে ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়। এ ১৮টি ওয়ার্ডের আয়তন ১১৩ দশমিক ৫৯ বর্গকিলোমিটার।
ডিএনসিসির পরিকল্পনা দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার পর বদলে যাবে সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোর চেহারা। মহাপরিকল্পনার আওতায় সড়কের আয়তন নির্ধারণ, বিদ্যুত্ ও পানির সংযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার, জলাধার সংরক্ষণ, সড়কবাতিসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। ফলে আধুনিক সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা পাবেন ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দারা।
তবে নতুন ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দারা বলছেন, উন্নয়নবঞ্চিত এ সব ওয়ার্ডে কবে থেকে কাজ শুরু হবে তা, নিয়ে জনগণ সংশয়ে রয়েছেন। সিটিতে যুক্ত হওয়ার প্রায় ২ বছর হতে চললেও এখনো মহাপরিকল্পনাই গ্রহণ করা হচ্ছে। একটি প্রকল্প হাতে নিতে যদি ২ বছর চলে যায়, তা হলে প্রকল্প পাস হয়ে কাজ শুরু করতে কত বছর লাগবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দারা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নতুন ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখা গেছে অপরিকল্পিত নগরায়ণের চিত্র। অধিকাংশ এলাকা এখনো নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দুবছর পার হতে চললেও কোনো উন্নয়ন কাজ শুরু করতে পারেনি ডিএনসিসি। ফলে স্থানীয় জনসাধারণের ক্ষোভের শেষ নেই।
রাজধানীর উত্তরখানের মোল্লারটেক এলাকার বাসিন্দা এম আক্তার হোসাইন ইত্তেফাককে জানান, এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। সামনে বর্ষাকাল আসছে, চলাফেরা করাই দায় হবে। এ সব এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। তিনি বলেন, সিটিতে যুক্ত হওয়ার পর সব কিছুর ব্যয় বেড়ে গেছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়েনি নাগরিক সুবিধা। সিটি করপোরেশন যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেটা কবে নাগাদ আলোর মুখ দেখবে একমাত্র তারাই জানেন।
ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা জানান, নতুন এলাকাগুলোতে সরকারি জমি সম্পর্কে সিটি করপোরেশনের ধারণা নেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য জমি দরকার। পর্যাপ্ত জমি খোঁজ করা হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যেই এ সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশাবাদী ওই কর্মকর্তা।
ডিএনসিসির সচিব দুলাল কৃষ্ণ সাহা ইত্তেফাককে বলেন, প্রায় তিন হাজার কোটিরও বেশি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সিটি করপোরেশন। প্রকল্প প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আমরা পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় খসড়া ডিপিপি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রকল্পের খসড়াটি যাচাই বাছাই করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় একনেকের সভায় উপস্থাপন করবে। একনেকে প্রকল্পটি পাস হলে খুব দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা করি।
ইত্তেফাক/নূহু