চৌগাছা মর্জাদ বাঁওড়ে মাছের মড়ক মত্স্যজীবীরা দিশেহারা

যশোরের চৌগাছা এবং ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মর্জাদ হাওরে দ্বিতীবারের মত ব্যাপকহারে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে। তিন থেকে চার কেজি ওজনের বিভিন্ন  প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে রয়েছে। জানা গেছে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মর্জাদ বাঁওড়ে রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে। ফলে মরা মাছের পচা দুর্গন্ধে বাঁওড় পার্শ্ববর্তী এলাকাবাসী একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মর্জাদ মত্স্যজীবী সমিতির সভাপতি নরউত্তম বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক গোকুল চন্দ বিশ্বাস জানান- চলতি আর্থিক (২০১৭-২০১৮) বছরে গত অক্টোবর মাসে প্রথম মাছের মড়ক দেখা দেয়। এ সময় বর্ষা মৌসুমের বাইরের পানি বাঁওড়ে ঢুকে পানি দূষিত হয়ে  রুই, কাতলা, মৃগেল এবং সিলভার জাতীয় মাছ ব্যাপকহারে মারা যায়। একইভাবে এবছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্বিতীয়বারের মত মাছের মড়ক শুরু হয়েছে। তারা জানান- এখনই যদি মাছের মড়ক বন্ধ করা না যায় তাহলে বাঁওড়ের মত্স্যজীবীদের পথে বসতে হবে।

বাঁওড় ব্যবস্থাপক আশরাফউদ্দীন আহমেদ জানান, বর্তমান বাঁওড়ে পানি কমে গিয়ে শ্যাওলা পচে পানি দূষিত হয়ে মাছ মারা যাচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী পানিতে চুন এবং গ্যাসোলিন দেওয়াসহ বাঁওড়ে কচাল টেনে পানি ওলট-পালট করে পানির গ্যাস বের করে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এব্যাপারে বাঁওড় ও মত্স্য উন্নয়ন প্রকল্প (রাজস্ব)-এর উপ-পরিচালক রমজান আলী এবং যশোর অঞ্চলের পিডি ড. শফিকুর রহমান জানান, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বাঁওড় ব্যবস্থাপক আরো জানিয়েছেন- চলতি আর্থিক বছরে সরকারিভাবে অত্র বাঁওড় থেকে ৮৫ মেট্রিক টন মাছ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তন্মধ্যে সরকারের ৬০% হারে ধার্যকৃত ৩৫.৭০ লাখ টাকা। বাকি ৪০% মত্স্যজীবী পেয়ে থাকেন। ইতিমধ্যে বাঁওড় কর্তৃপক্ষ এবং দুই উপজেলা প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকিতে এবার প্রথম ধাপে ৩৭ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়েছে। যা সরকারি অংশ ১৫.৫৪ লাখ টাকা কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।’

ইত্তেফাক/নূহু