বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে মাগুরার হাতপাখা

গরম এসে যাওয়ায় মাগুরার পাখা পল্লী বর্তমানে সরগরম। তালের হাতপাখা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। তাদের এক মুহূর্ত অবসর নেই। মাগুরার তৈরি তালের হাতপাখা দেশের বিভিন্ন জেলায় চালান যাচ্ছে। ফলে দুই শতাধিক পরিবারের মৌসুমি কর্মসংস্থান হয়েছে।
 
জানা গেছে, মাগুরার শিবরামপুর, নিজনান্দুয়ালী, সংকজখালী,শক্রজিৎপুর, আড়পাড়া, বিনোদপুর, পারিয়াট, ধনেশ্বরগাতি প্রভৃতি গ্রামে তালের হাতপাখা তৈরি হয়। এসব গ্রামে দুই শতাধিক পরিবার পাখা তৈরির সাথে জড়িত।  প্রথমে তাল পাতা কেটে রোদে শুকিয়ে তাতে সুতা দিয়ে বাঁশের শলাকা দিয়ে সেলাই করে তৈরি করা হয় তালের হাতপাখা। তার রঙ করা হয় সুন্দরের জন্য। ফাল্গুন মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পাখার মৌসুম। একজন শিল্পী প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০/৬০টি পাখা তৈরি করতে পারেন। প্রতিটি পাখা তৈরিতে খরচ পড়ে গড়ে ১০ টাকা বিক্রি হয় ১৫/ ২০টাকা। অন্য জেলা থেকে পাইকাররা এখানে এসে পাখা ক্রয় করে নিয়ে যায়। মাগুরা পাখার মোকামে পরিণত হয়েছে।
 
বর্তমানে গরম পড়ায় পাখা শিল্পীদের এক মুহূর্ত বসার সময় নেই। পাখা শিল্পীদের বেশিরভাগ নারী। তারা দৈনিক ৩শ'-৪ শ' টাকা আয় করে থাকেন। পাখা শিল্পীরা জানান, বর্তমানে তালের পাতার সংকট রয়েছে। প্রতিটি তাল পাতা ৫ টাকা  করে ক্রয় করে আনতে হয়। এর পর কেটে রোদে শুকাতে হয়। তারপর বাঁশের শলাকা, সুতা ও রঙ দিয়ে খরচ পড়ে ১০টাকা। প্রতিটি পাখা ১৫/২০ টাকা দরে বিক্রি করেন। প্রতিটি পাখায় ৫ থেকে ১০ টাকা লাভ থাকে। তারা সংসারের কাজের পাশাপাশি এই কাজ করেন। গরম পড়লে তাদের কাজ বেঁড়ে যায়। ফাল্গুন মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পাখার মৌসুম।
 
ইত্তেফাক/এসএস