প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ সাজাচ্ছে দাবি করে বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২২ জেলার ডিসি রদবদল আওয়ামী লীগের নির্বাচনের আগাম নীলনকশা।
কয়েকদিন আগে সরকারের সহযোগী হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে আগাম নির্বাচন হতে পারে। গত রবিবার ২২ জন ডিসি ও ২৯ জন এসপি নিয়োগ ও বদলী করা হয়েছে। এটা আগাম নির্বাচনের আলামত কী না সেটা নিয়ে মানুষের মধ্যে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। আপনারা নিজেদের মতো করে যতোই নির্বাচনী মাঠ সাজান না কেন তাতে কোন কাজ হবে না। কারণ বিএনপি ও বেগম জিয়া ছাড়া দেশে অংশগ্রহণমূলক কোন নির্বাচন হবে না, জনগণই এধরণের নির্বাচন হতে দেবে না।
সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব কি আওয়ামী লীগের সম্পাদকের পাশাপাশি জোনাল সামরিক শাসকের দায়িত্ব পালন করছেন? কারণ গণতন্ত্রে তো এ ধরনের ভাষা নেই। এখন হাসিনাতন্ত্র চলছে বলেই গণতন্ত্রহীন ভাষা প্রয়োগ করতে পারছেন ওবায়দুল কাদের সাহেবরা।
তিনি বলেন, জনসমাবেশ, প্রতিবাদ সভা, মিছিল করা ইত্যাদি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। মানুষের অধিকার পুলিশের বিধি-নিষেধের ওপর নির্ভর করে না। এ অধিকারগুলো মানুষের জন্মগত। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে সমাবেশের অধিকার এবং চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
সমাবেশের জন্য পুলিশের অনুমতি নিতে হয় এমন নজির পৃথিবীর কোনও দেশে নেই দাবি করে তিনি বলেন, অপরাধ দমনের জন্য জনগণের টাকায় পুলিশ পালিত হয়, আর সেই পুলিশ অপরাধ দমন না করে রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পিষ্ট করছে বুটের তলায়। পৃথিবীর কোনও গণতান্ত্রিক দেশে এমন নজির দেখাতে পারবে না, যেখানে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশে বাধা দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড.আব্দুস সালাম আজাদ, শিশুবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম।
ইত্তেফাক/এমআই