১৪ বছর পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন

 
দীর্ঘ ১৪ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব নিতে ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ, ভোটারদের সাথে জনসংযোগের শেষ পর্যায়ে আছেন অর্ধশতাধিক পদ প্রত্যাশী। প্রত্যেকেই কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কাছে বিভিন্ন উপায়ে নিজ নিজ ত্যাগ, নির্যাতন, আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থাকার তথ্য তুলে ধরছেন।
 
জানতে চাইলে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বখতিয়ার সাঈদ ইরান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তৈয়ব ইত্তেফাককে বলেন, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সম্মেলনে কেন্দ্র ও জেলার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সভাপতি ও সম্পাদক পদের জন্য ৬০জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। নেতৃত্ব নির্বাচনের ভার ভোটারদের হাতে। আশা করছি, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে সকলেই ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করবেন।
 
নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যাচাই-বাছাই করে ৬০জন পদ প্রত্যাশীর তালিকা চূড়ান্ত করে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের হাতের পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের ৯টি ইউনিট থেকে ২২৫জন এবং জেলার কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪১জন সদস্যসহ মোট ৩৬৬জন কাউন্সিলর ব্যালটের মাধ্যমে সভাপতি ও সম্পাদক পদে নেতা নির্বাচন করবেন। এর আগে সর্বশেষ ২০০৩ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে উত্তরজেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি ও সম্পাদক রাজিবুল হাসান সুমন ও সৈয়দ মঞ্জুর আলমকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। এরপর ভোটের মাধ্যমে আর কোনো নেতৃত্ব উঠে আসেনি। ২০১১ সালে বর্তমান সভাপতি বখতিয়ার সাঈদ ইরান ও সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়বের নেতৃত্বধীন কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষিত হয়েছিল।
 
ভোটারদের ভাষ্য, সভাপতি ও সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে তানভীর হোসেন তপু, মুবিনুল হক চৌধুরী, রিয়াজ আহমেদ, ওমর ফারুক, রেজাউল করিম, মিজান উদ্দিন, নঈমুল হক চৌধুরী, ফরহাদ উদ্দিন বাপ্পা এগিয়ে আছেন। তবে যেহেতু গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট অনুষ্ঠিত হবে সেহেতু কে নির্বাচিত হন তা দেখতে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন তারা।
 
জানতে চাইলে পদ-প্রত্যাশী তানভীর হোসেন তপু ইত্তেফাককে বলেন, ‘ছাত্রজীবনের শুরু থেকে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আদর্শকে ধারণ করার চেষ্টা করেছি। যেখানেই গেছি, এই আদর্শকে সামনে রেখেই ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছি। এখন কাউন্সিলররা যদি যোগ্য মনে করেন তাহলে আমি নির্বাচিত হবো।’
 
আরেকজন পদ প্রত্যাশী মুবিনুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি নিজ এলাকা রাউজানে নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি। ছাত্রলীগের কর্মীরা এসব ঘটনা জানে। তাছাড়া কৈশোর থেকে ছাত্রলীগের প্রেমে পড়েছি। এই সংগঠনের আদর্শকে বুকে ধারণ করেছি। এখন যদি সুযোগ পাই তাহলে আমার সর্বোচ্চটুকু দেয়ার চেষ্টা করবো।’
 
উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নেতারা জানিয়েছেন, আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সংগঠনটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম, সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, দিদারুল আলম, মাহফুজুর রহমান মিতা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
 
এছাড়া সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখবেন সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। সভাপতিত্ব করবেন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বখতিয়ার সাঈদ ইরান ও সঞ্চালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তৈয়ব।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি