আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আরো প্রায় ১০ মাস বাকি থাকলেও নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে দেশের সংসদীয় আসনগুলোতে। ব্যতিক্রম নয় ঢাকা-১৪। এ আসনের প্রার্থিতা নিয়ে চলছে জোর তত্পরতা। কে হবেন নৌকার মাঝি, ধানের শীষই বা কার হাতে শোভা পাবে— ভোটারদের মধ্যে চলছে এসব জল্পনা কল্পনা।
এই নির্বাচনী এলাকা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা এবার বেশি। একাধিক প্রার্থী দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। একই অবস্থা বিএনপিরও। তবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পাশে থাকা না থাকা নিয়ে দলটির ভেতর রয়েছে পারস্পারিক দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং, পাল্লাপাল্টি অবস্থান। ফলে এই আসনে কোন প্রার্থী চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন তা দেখতে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে বসে নেই আগ্রহীরা। তারা এলাকাভিত্তিক গণসংযোগ এবং নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। ব্যবহার করছেন ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম। আর এসব মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে নিজের প্রার্থীতার বিষয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। বিএনপিতে দলীয় দন্দ্বের এই সুবিধা নিতে পারবে বলে আশা করছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আসলামুল হক আগামি নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার মনোনয়ন পাওয়াটা অনেকটা নিশ্চিত। তবে কোন কারণে মনোনয়ন বঞ্চিত হলে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি নৌকার হাল ধরতে পারেন। এছাড়া এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মাজহার আনাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান বাচ্চুও রয়েছেন আলোচনায়।
মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রত্যেকেরই দাবি, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো। তারা আশা করছেন দলের মনোনয়ন নিজের পক্ষে আসবে। উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটির ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড এবং সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে এই আসন গঠিত।
মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবিনা আক্তার তুহিন ইত্তেফাককে বলেন, আমি নেতা নই, কর্মী। ছাত্র রাজনীতি করে এখানে এসেছি। এলাকার সমস্যা নিয়ে কাজ করি, তাই মানুষ আমাকে ভালোবাসে। নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে নৌকার জয় ঘরে নিয়ে আসব। তবে দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলেও আমি তার জন্য কাজ করব।
আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি ইত্তেফাককে বলেন, আমি এই এলাকার সন্তান। ছাত্রলীগ, যুবলীগ হয়ে এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। সবসময় এলাকার মানুষের সুখ:দু:খে তাদের পাশে আছি। এই আসন থেকে আমি নির্বাচন করতে চাই। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্য কাজ করবেন বলে তিনিও মন্তব্য করেন।
এদিকে এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠে নেমে পড়েছেন। দলের সবুজ সঙ্কেত পেতে আরো বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে জেনেও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তত্পরতা শুরু করেছেন তারা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করায় এবার সারা দেশের মতো এই আসনেও একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তবে এ আসন থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন তিনি মহানগরকেন্দ্রিক রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হবেন -এমনটাই আভাস দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। ঢাকা-১৪ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এস এ খালেক। এবারো তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। যদিও এস এ খালেকের সাথে দীর্ঘদিন ধরে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের কোনো যোগাযোগ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সরকার বিরোধী আন্দোলনে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে মিরপুরে কোনো ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সী বজলুল বাসিদ আনজু। তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে না থাকার অভিযোগ রয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরো রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি রবিউল আউয়াল ও মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি সাবেক কমিশনার মাসুদ খান।
এলাকার বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা আছে সিনিয়র নেতাদের। তাদের স্বেচ্ছাচারী নেতৃত্বের কারণেই মিরপুর থানা বিএনপিতে ব্যাপক দলাদলি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিগত আন্দোলনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি মিরপুরের এ তিন থানার নেতাকর্মীরা। একারণে তাদের মাঝে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে এ কারণে।
ইত্তেফাক/নূহু