পরিত্যক্ত কলোনির টিনশেডে গড়ে উঠেছে বিদ্যাপীঠ

আলমডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত কলোনির টিনশেডে গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের সুপরিচিত বিদ্যাপীঠ আল-ইকরা ক্যাডেট একাডেমী। পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের কার্যক্রম থানা পর্যায় থেকে গুটিয়ে জেলা পর্যায়ে নিয়ে গেলে একদল শিক্ষাপ্রিয় মানুষ সেখানে একটি টিনেশেডে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।
 
২০০৬ সালে গড়ে তোলা এই স্কুলটি প্রথম দিকে শিক্ষার্থী সংকটে ভুগলেও এখন এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৫ জনে। শিক্ষার মান বিবেচনায় উপজেলার সবচে আভিজাত্যময় স্কুলটির সংকট এখন শিক্ষার্থীদের কক্ষ সংকট। কারণ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাড়া নেওয়া এই টিনশেডের পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যায় না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালার গ্যাঁড়াকলে আল-ইকরা পড়ে থাকলেও  পানি উন্নয়ন বোর্ডের আরেকটি কলোনিতে গড়ে তোলা মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্বিতল ভবন নির্মাণ করতে পেরেছেন।
 
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে ইত্তেফাকের এই সংবাদদাতা স্কুলটির গেইট পেরিয়ে ভেতরে ঢোকেন। চারদিকে সুনসান পিনপতন নীরবতা। প্রশ্ন জাগলো স্কুল ছুটি নাকি? প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই অফিস থেকে বেরিয়ে এই প্রতিনিধির কাছে আসেন। স্কুল ছুটি নাকি প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, 'ক্লাস চলছে।' ১ হাজার ৩৫ জন শিক্ষার্থীতে ঠাসা বিদ্যালয়ে ক্লাস চলায় এই নীরবতা! বুঝতে বাকি থাকে না, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সন্তান থেকে শুরু করে বেশীরভাগ সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তান ও শহরের শিক্ষিত মানুষেরা তাদের সন্তানদের এই কিন্ডার গার্টেন স্কুলে পড়তে দেন।
 
অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, 'আল-ইকরা কম খরচে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাদানের সুযোগ দিচ্ছে। এখানে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি শেখানো হয় নিয়মানুবর্তিতা। এদের যেকোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে যেকোনো বিষয়ে প্রতিযোগিতায় জিতে আসার সক্ষমতা রয়েছে। এভাবেই শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলে আল-ইকরা। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় এদের ফলাফল ঈর্ষনীয় পর্যায়ের। আল-ইকরা এখন অনেকটা অনুকরণীয় পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে।'
 
সম্প্রতি আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় উপজেলার ১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে পঞ্চম শ্রেণী থেকে শুরু করে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সবকটিতে প্রথম স্থানসহ মোট ১০টি পুরস্কার জিতে নেয় আল-ইকরার শিক্ষার্থীরা।
 
সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাদ জাহান ইত্তেফাককে বলেন, আলমডাঙ্গাতে আল-ইকরা একটি উচ্চমার্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমার মেয়ে আল-ইকরার ছাত্রী। তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি বিধিমালার কারণে কক্ষ সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। এতে একটি আদর্শ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
IMG0
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান ইত্তেফাককে বলেন, আমি শুনেছি স্কুলটিতে মানসম্পন্ন লেখাপড়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ আবাসন সমস্যা দূরীকরণে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তিনি বলেন, দেশের অনেক উপজেলা কম্পাউন্ডে এমন মানসম্পন্ন স্কুল রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এসএস