মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধের তদন্তের অস্বীকৃতি আইসিসির

 

আফগানিস্তানে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত দাবি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলির করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছে সংস্থাটি। সেদেশে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং স্থানীয় তদন্তকারীদের সহযোগিতার অভাবকে দায়ী করেছে আইসিসি। আইসিসির কৌঁসুলি ফাতোও বেনসৌদার ভিসা বাতিল করার এক সপ্তাহ পর এই ঘোষণা এলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রায়কে ‘গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই রায়ের সমালোচনা করেছে।

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য সেনারাও যুদ্ধাপরাধ করেছে কি-না, সেই অভিযোগ প্রায় এক দশক ধরে যাচাই করে আসছে আইসিসির কৌঁসুলিরা। সম্ভাব্য অপরাধের বিষয় খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই শুরু হয় ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে। আইসিসি যদিও বলেছে, যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে এমনটা বিশ্বাস করার ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ রয়েছে। বিচারকরা বলেন, আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থায় ‘সফল তদন্ত পরিচালনার সম্ভাবনা অত্যন্ত সামান্য।’ আফগানিস্তানে মার্কিন সেনারা যুদ্ধাপরাধ করেছিলল, এমন অভিযোগ তদন্ত করার জন্য আবেদন করেছিলেন বেনসৌদা। তার ভিসা বাতিল হওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল যে তার ঐ আবেদনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র তার ভিসা বাতিল করেছে। সর্বসম্মতভাবে নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা হিসেবে আইসিসির বিচার পূর্ববর্তী আদালতের তিন বিচারক বলেন, এ ধরণের তদন্ত ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থ রক্ষা’ করবে না। খবর বিবিসির।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধ তদন্তে অস্বীকৃতি জানানোর সিদ্ধান্ত ‘ভুক্তভোগীদের পরিত্যাগ করার অত্যন্ত বেদনাদায়ক নজির যা আদালতের গ্রহণযোগ্যতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’ অ্যামনেস্টির বিরাজ পাটনায়ক বলেছেন, এই সিদ্ধান্তকে ‘ওয়াাশিংটনের হুমকির সামনে কাপুরুষোচিত আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখা হতে পারে।

এদিকে ডোনাল্ড  ট্রাম্প বলেছেন, এই রায়ের ফলে ‘শুধু এই দেশপ্রেমিকদেরই নয়, আইনের শাসনেরও বিজয় হয়েছে।’ এক বিবৃতিতে তিনি আইসিসিকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া’ দেখানো হবে যদি তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে। মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসির সমালোচনা করে আসছে। মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে, গত সেপ্টেম্বরে এমন হুমকি দিয়েছিল মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন।