নানা সমস্যায় জর্জরিত বরিশাল বিসিক। সড়কের দুরবস্থা ও চরম অযত্ন আর অবহেলার পাশাপাশি বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বরিশাল বিসিক শিল্প নগরীতে যে ক’টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তা এখন হুমকির সম্মুখীন। এখানকার ৫০টির বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার শ্রমিক এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া তো দূরের কথা শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই মুশকিল হয়েছে মালিকদের জন্য। বিসিকের বিদ্যুতের ফিডারটি কাউনিয়া বাসা-বাড়ির ফিডারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। ঘন ঘন বিদ্যুত্ আসা-যাওয়ার ফলে শুধুমাত্র প্লাস্টিক কারখানাগুলোর গড়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। বেশ কয়েকটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিরও ক্ষতি অপূরণীয়।
নানা প্রতিকূলতা এড়িয়ে রপ্তানিমুখী ফরচুন সুজ কোম্পানি গত ২০১১ সালে বরিশাল বিসিকে তাদের ফ্যাক্টরিতে উত্পাদন শুরু করে। সেই থেকে এ প্রতিষ্ঠানে আড়াই হাজার শ্রমিক যুক্ত।
ফরচুন সুজ কোম্পানির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ফরচুন সুজ বিশ্বের সু-প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ডাইস ম্যান, পিডব্লিউএইচ, হ্যাঙ্কেল ম্যান, পিএমএস, নভি, ডানলপ, কিয়োনাস্ট, স্লোইঞ্জার, ইউরো সু, কার্টিনা এবং এইচএন্ডএম ব্রান্ডের সঙ্গে কাজ করে থাকে। তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিশ্বের সর্বাধুনিক মেশিনারিজের সর্বোত্কৃষ্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং বিশ্বমানের ল্যাব সুবিধা রয়েছে।
ফরচুন সুজ লিমিটেড’র ডিজিএম (প্রশাসন) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু বিদ্যুত্ বিপর্যয় ও রাস্তা বেহাল থাকায় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিদ্যুতের বিকল্প পাওয়ার প্লান্টে প্রতি বছর পাঁচ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান অহিদ জানান, দীর্ঘ চেষ্টা করেও এ শিল্প এলাকার উন্নয়নে এখানকার বিসিক অফিসের কোনো সহযোগিতা পাননি। তিনি বলেন কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন স্থান থেকে শিল্প উদ্যোক্তাদের বিসিকে এনে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে তিনি এখন বিপাকে পড়েছেন। প্রত্যেক শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে বিশাল অঙ্কের সার্ভিস চার্জ, পানির বিল বিসিক অফিস আদায় করলেও বিসিকের কোনো উন্নয়নে তাদের পাওয়া যায় না। কোনো প্রহরী না থাকায় অরক্ষিত থাকে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। বিদ্যুতের জন্য পৃথক ফিডারের জন্য চেষ্টা করে তারা বিফল হয়ে আছেন অফিসের কোনো সহায়তা না পাওয়ায়।
১৯৬০ সালে ১৩০ দশমিক ৬১ একর জমির ওপর এ শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। তখন ব্যয় হয়েছিল ১৩১ দশমিক ৬৫ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এর কোনো বিকাশ ঘটেনি। বরং চরম অযত্ন আর অবহেলায় বিসিকের এখন চরম বেহাল দশা। এ শিল্প এলাকার সড়কের খানা-খন্দে কোনো পরিবহন চলাচল করতে পারছে না। ড্রেনেজ পদ্ধতির কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই পুরো বিসিক এলাকা তলিয়ে যায়। এত বিশাল এলাকা রক্ষায় এ শিল্প নগরীতে নেই কোনো নৈশপ্রহরী।
বিসিক অফিসের এস্টেট অফিসার মো. সাফাউল করিম বলেন, বরিশাল বিসিকের জন্য বেশ কিছু টাকা অনুমোদন হয়েছে। যা দ্বারা মাটি ভরাট, রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, বিদ্যুত্ ও সাব-মারসিবল পাম্পসহ পানি সরবরাহ লাইন সংযোগ করা হবে।
বিসিক অফিস সূত্র জানায়, বিসিকের মোট প্লট সংখ্যা ৪৪৬টি এরমধ্যে উন্নত প্লট ৩৩৪টি, অনুন্নত প্লট ১১২টি, বরাদ্দকৃত প্লটে শিল্ট ইউনিট সংখ্যা ১৭৩টি, উত্পাদনরত শিল্প ইউনিট সংখ্যা ৮৫টি, রুগ্ন বা বন্ধ শিল্প ইউনিট ১৭টি।
ইত্তেফাক/নূহু