বৌভাতের নামে নাশকতার পরিকল্পনা, জামায়াত নেতাসহ গ্রেফতার ৫

নাশকতার পরিকল্পনাকারী গুরুদাসপুর উপজেলা ও পৌর জামায়াতের আমিরসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। গুরুদাসপুর পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মশিউর রহমান বাবলুর চাঁচকৈড়ের বাড়ি থেকে শুক্রবার সকাল আটটার দিকে তাদের আটক করা হয়।
 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক মোল্লা (৫০), পৌর জামায়াতের আমির মো. আলমগীর, পৌর বিএনপির সভাপতি মশিউর রহমান বাবলুর দুই ছেলে মিছিল (৩০), মিহির (২২) ও ভাতিজা রানা শাহ (২২)। তারা পৌর সদরের চাঁচকৈড় পুড়ান পাড়া মহল্লার বাসিন্দা।
 
পুলিশ জানায়, গুরুদাসপুর পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মশিউর রহমান বাবলু দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া। শুক্রবার নিজ বাড়িতেই ছিল তার ছেলে মিছিলের বৌভাত। সেই আয়োজনকে ঘিরে জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক মোল্লা বিএনপি-জামায়াতের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠানস্থলে সমাবেশ করছিলেন।
 
ওই সমাবেশে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শহরে নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় সমাবেশটি পণ্ড করে উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক মোল্লাকে আটক করে পুলিশ। পরে পৃথক অভিযানে আরো চারজনকে আটক করা হয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে শহরে পুলিশি মহরা অব্যাহত রাখা হয়।
 
গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, বৌভাতের নামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতের কর্মী-সমর্থক নিয়ে জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। একারণে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এঘটনায় আটককৃতদের অভিযুক্ত করে নাশকতা দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, পৌর বিএনপির সভাপতি মশিউর রহমান বাবলুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ছেলের বৌভাতের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। ব্যবসায়ীরা বাবলুর নামে অভিযোগ দিলেও তার ভাইদের সাথে কোন ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। মূলত গুরুদাসপুর বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করতে এসব ঘটানো হচ্ছে।
 
উপজেলা বিএনপির সভাপতি উপজেলা পষিদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ জানান, বাবলুর বাড়িতে বৌভাতের দাওয়াত ছিল তার। তিনি যেতে পারেন নি। তবে কেন প্রশাসন বৌভাতের অনুষ্ঠান থেকে জামায়াত নেতাদের আটক করেছে এটা তার বোধগম্য নয়।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি