ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসতে চাইছে। কিন্তু বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি সহায়তা ছাড়া কোনো বিনিয়োগ উদ্যোগ সফল হবে না বলে মনে করছেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। অন্যান্য দেশের চাইতে বাংলাদেশের কর্পোরেট করহার অনেক বেশি উল্লেখ করে তিনি এনবিআরকে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নীতি গ্রহণ করার আহ্বান জানান। গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে এনবিআর আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে পবন চৌধুরী এসব কথা বলেন। বাজেটকে সামনে রেখে এনবিআর আয়োজিত পরামর্শমূলক আলোচনা সভায় বেজা ছাড়াও বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (বেপজা), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বিল্ড এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
বাংলাদেশে জাপানসহ বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগে আসতে চায় বলে জানান পবন চৌধুরী। জাপানের মারুবেনিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বেজা’র আওতাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের বিষয়ে অনেকদূর এগিয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশেরও কিছু বড় প্রতিষ্ঠান বিদেশে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে এদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো আইনের ফাঁক গলে বৈধ উপায়ে বেতন, লভ্যাংশ হিসেবে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে যাচ্ছে। এখানে ৪০ শতাংশ কর (কর্পোরেট কর) আর অন্য দেশে যদি তা ১৭ শতাংশ হয়, তাহলে টাকা তো সেখানেই যাবে।
বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উত্পাদননির্ভর অর্থনীতিতে মনোযোগ দিতে হবে। আলোচনায় বেপজা’র পক্ষ থেকে বেজা’র আওতাধীন শিল্পের ন্যায় বেপজা’র আওতাধীন শিল্পেও সমহারে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কোনো কোনো থিঙ্কট্যাঙ্ক বলছে, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতকে বেশি সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। অনেক দেশ থেকেই কম মূল্যে আমদানির সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে আমদানিকে বাধাগ্রস্ত করছি কিনা - এটিও ভাববার বিষয়। যারা সুযোগ নিচ্ছে, সে সুযোগ তার কাছেই থেকে যাচ্ছে কিনা তাও দেখতে হবে। এ সময় তিনি বলেন, ট্যাক্স কার্ডের মতো টিআইএন কার্ড করা যায় কিনা, এনবিআর সেই চিন্তা করছে। সভায় বিল্ড’এর সিইও ফেরদৌস আরা বেগম ছাড়াও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।