পানিশূন্য প্রায় এককালের খরস্রোতা পাগলা নদ!

পুনঃখনন করা হলে সহায়ক হবে কৃষি ও মত্স্য চাষ, বাড়বে সরকারের রাজস্ব

মো. তসলিম উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা, মহানন্দা, পাগলা ও পুনর্ভভা নদী। এই চারটি নদীর মধ্যে পাগলা নদের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া, ছত্রাজিতপুর, নয়ালাভাঙ্গা, উজিরপুর, পাঁকা, শিবগঞ্জ পৌরসভা, দুর্লভপুর, কানসাট, শ্যামপুর ও শাহবাজপুর ইউনিয়নের জনসাধারণ। এছাড়া, সদর উপজেলার রানীহাটি ও সন্দুরপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের ইউনিয়নের বাসিন্দা। এই নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ কিলোমিটার। নদীটি একসময় ছিল খরস্রোতা। সারাবছর পানি থাকত, নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা গোসলসহ গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করত। সেই বহতা নদী এখন মরা একটি খালে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে শিবগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের দশরশিয়া দাঁড়ায় ও ১৮ কলম নামক স্থান দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় পাগলা নদীর সঙ্গে পদ্মা নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পাগলা নদী আরো পানি শূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

বর্তমানে পাগলা নদ পানিশূন্য হয়ে পড়ায় শিবগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের নদী তীরবর্তী বিশাল এলাকার জনসাধারণ পানি সংকটে পড়েছে। বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে নৌপথে ব্যবসা-বাণিজ্য। খরা এলেই পাগলা নদী শুকিয়ে যায় এবং যে টুকু পানি থাকে তা কচুরিপানায় ঢেকে গিয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এখন আর পাওয়া যায় না সেই দেশি প্রজাতির সুস্বাদু  মাছ। কোনো নৌকা ছাড়াই মানুষ অনায়াসে পায়ে হেঁটে নদী পারাপার হচ্ছে। নদীটি হারিয়ে ফেলেছে তার মানচিত্র। নদীতে পানি না থাকায় বিপদে পড়েছে নদী তীরবর্তী লাখ লাখ মানুষ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর হতে সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কালিনগর পর্যন্ত ৪১ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে। ছয়টি প্যাকেজে দুই বছর মেয়াদে খনন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এ কাজে ব্যয় হবে ৬৬ কোটি টাকা। তিনি আরো বলেন, কালিনগর এলাকায় জলকাঠামো নির্মাণ করে বারোমাস পানি সংরক্ষণ করে সেচ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের। পাগলা নদ পুনঃখনন করা হলে সহায়ক হবে কৃষি ও মত্স্য চাষে। সরকারের রাজস্বও বাড়বে।