উৎসবের আমেজে খুলনা, সার্কিট হাউজ ময়দানে মানুষের ঢল

খুলনা সার্কিট হাউজমুখী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় মানুষের ঢল নেমেছে। আজ শনিবার বিকাল ৩টায় জনসভার নির্ধারিত সময় থাকলেও সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে নগরীর সার্কিট হাউজ ময়দানের উদ্দেশ্যে মানুষ আসতে থাকে। বেলা ১২টার মধ্যেই সার্কিট হাউজ ময়দান জনসাধারণে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। 
 
এছাড়া ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে জনসভাস্থলে উপস্থিত হতে থাকে। মিছিলে মিছিলে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে শিল্প ও বন্দর নগরী খুলনা।
 
খুলনা মহানগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাস্থলে শত শত তোরণ ও ব্যানার-ফেস্টুনে সেজে উঠেছে খুলনা মহানগরী। বড়-ছোট সব সড়কে শোভা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে নানা স্বাগতবার্তা। খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে তৈরি করা হয়েছে বিশাল নৌকা আকৃতির সভামঞ্চ। ১১০ ফুট দৈর্ঘ্য আর ৩০ ফুট প্রস্থের এই সভামঞ্চে রয়েছে ২৫০ আসন। বিকাল ৩টায় এই মঞ্চ থেকে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
 
নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি
সার্কিট হাউজ ময়দানের জনসভায় মহিলাদের ব্যাপক উপস্থিতি ঘটেছে। সকাল থেকে পায়ে হেঁটে শত শত নারী জনসভাস্থলে যোগদেন। দুপুর দেড়টার মধ্যে সার্কিট হাউজ ময়দান ভরে যায়। মহিলাদের মধ্যে তরুণীদের উপস্থিতি জনসভাস্থ প্রাণবন্ত করে তোলে। এসময় নেচে-গেয়ে, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে মিছিল করে জনসভাস্থল মুখরিত করে রাখে তারা। আর মহিলাদের নিরাপত্তার সাথে বসার জন্য আয়োজকরা মাঠে পুরুষদের প্রথমে ঢুকতে দেননি। মহিলারা পুরো মাঠ পরিপূর্ণকরার পর পশ্চিম পাশসহ সড়কগুলো পুরুষরা অবস্থান নেন।
 
প্রথম মিছিল ছিল মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ড কাউন্সিলের
প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দিতে প্রথম মিছিলটি আসে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ড কাউন্সিল খুলনা মহানগর শাখা ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধাদের পতাকা নিয়ে মিছিলসহকারে জনসভায় যোগদেন। মুক্তিযোদ্ধা নারী-পুরুষ সম্মিলিতভাবে ‘তোমার দেশ আমার দেশ’ ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ,’ ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’ স্লোগান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা জনসভাস্থলে প্রবেশ করেন। 
 
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দ্বিগুণ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। চাকরির ক্ষেত্রে বা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য কোটা ব্যবস্থা রেখেছেন। কাজেই প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তাই প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেয়ার জন্যই আমরা স্বর্তস্ফুতভাবে এখানে এসেছি।
 
ইত্তেফাক/কেকে