দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা
শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই খুলনার দাকোপ উপজেলার সর্বত্রই সুপেয় পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার চারপাশে লবণ পানির প্রভাবে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে বাধ্য হয়ে অনেকেই ডোবা-নালার পানি খেয়ে ডায়রিয়াসহ নানা পানি বাহিত রোগে ভুগছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিনটি দ্বীপের সমন্বয় এই উপজেলা গঠিত এবং এর চারপাশে নদীতে লবণ পানির চাপ থাকায় খরা মৌসুমে সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দেয়। প্রতি বছরের মতো এ বছরও শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই উপজেলার একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের সর্বত্রই সুপেয় পানীয় জলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
গুনারী কালী বাড়ি এলাকার বিথিকা সরদার বলেন, দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরের একটি পুকুর থেকে অতি কষ্টে পানি এনে খেতে হচ্ছে। যাদের টাকা আছে তারা বাইরে থেকে বিশুদ্ধ পানি কিনে এনে খাচ্ছে। আর তারা গরিব বিধায় সরাসরি পুকুরের অবিশুদ্ধ পানি খেতে হচ্ছে।
চালনা পৌরসভার লঞ্চঘাট এলাকার যশোদা হোটেলের মালিক সমরেশ জোদ্দার বলেন, পানি সংকটের কারণে খরিদ্দারদের পানি দিতে পারছি না। পুকুরের পানি খাবার অনুপযোগী হওয়ায় তা দিয়ে থালা বাসন ও হাত ধোয়ার কাজ চলছে আর খরিদ্দাদের ৫০ পয়সা লিটার পানি কিনে খেতে দিতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হক নিজামী বলেন, প্রধানত সুপেয় পানির অভাবে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। গত দেড় মাসে ৭৬ জন মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নেন।
চালনা পৌর মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস জানান, সুপেয় পানির জন্য ৩২ পৌরসভা নামে একটি প্রকল্প জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন দিয়েছে। তার মধ্যে চালনা পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত। দুই এক মাসের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া যাবে। আর বরাদ্দ আসলে এবং সেটা বাস্তবায়ন হলে সুপেয় পানি সংকট অনেকটা নিরসন হবে বলে তিনি মনে করেন।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মিলন ফকির বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ঠিকই। তারপরও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির আধার সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি সুপেয় পানি সংকট নিরসনে বিভিন্ন এনজিওসহ সবার সহযোগিতা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।