২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: এ পর্যন্ত ২৪ আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনায় করা মামলায় আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। এ মামলায় এ পর্যন্ত ২৪ আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ছিল এ মামলায় যুক্তিতর্ক পেশ করার ৫১তম দিন। 
 
আজ আসামি মো. জাহাঙ্গির আলম (কুষ্টিয়া) নির্দোষ দাবি করে নিজের পক্ষে নিজেই দ্বিতীয় দিনে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন। এ যুক্তিতর্ক পেশ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম বুধবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে। এদিন মামলার আসামি আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) এর পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ করা হবে।
 
এর আগে এ মামলায় পলাতক আসামী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাওলানা লিটন ওরফে জুবায়ের, মুফতি সফিকুর রহমান, মো. ইকবাল, মাওলানা তাজউদ্দিন, জাহাঙ্গির আলম বদর, রাতুল আহমদ বাবু, মহিবুল মোত্তাকিন, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, মো. খলিল, বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, আনিসুল মোরসালিন ও মুফতি আবদুল হাইয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। 
 
এ মামলায় আটক আসামি উজ্জল ওরফে রতন, মুন্সি মুহিবুল্লাহ ওরফে অভি, আবদুল হান্নান ওরফে মাওলানা সাব্বির, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আসামি মাওলানা মো. সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফর, আরিফ হাসান সুমন, হোসাইন আহমেদ তামিম, আসামি হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, আসামি আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুলের পক্ষে তাদের নিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন।
 
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২২ জন নিহত ও নেতকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
 
ইত্তেফাক/এমআই