পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে উত্তর কোরিয়া। আগামী এপ্রিলে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে সম্ভাব্য অগ্রগতি হয়েছে। খবর সিএনএনের
যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপনাস্ত্রের পরীক্ষা থেকে বিরত থাকারও ঘোষণা দিয়েছেন কিম জং উন। গত কয়েক বছরে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসে এটা বড় ধরনের অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার উত্তর কোরিয়া সফরে যায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দল। এর নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চুং ইউই-ইয়ং। গতকাল দেশে ফিরে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি করতে এবং পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প ত্যাগ করা নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন কিম জং উন।
চুং ইউই-ইয়ং জানান, উত্তর কোরিয়া এটা স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত থাকার কোনো ইচ্ছা নেই। তবে তাদের প্রতি হুমকি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চয়তা দিতে হবে। আগামী মাসে দক্ষিন কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন এবং কিম সীমান্ত গ্রাম পানমুনজামের পিস হাউসে বৈঠক করবেন। শীতকালীন অলিম্পিককে ঘিরে দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার এই অগ্রগতিতে মুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
পিয়ংইয়ং এবং সিউল যোগাযোগের জন্য একটা হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সরকার প্রধান যে কোনো সময় যোগাযোগ করতে পারবেন। এর আগে ২০০৭ সালে সর্বশেষ দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ায় কিম ক্ষমতার আসার পর এই প্রথম দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা চলছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল এক টুইট বার্তায় বলেন, অনেক বছর পর এই প্রথম দুই কোরিয়ার মধ্যে বড় অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্ব সেটা দেখছে। হয়তো আশা মিথ্যা হতে পারে। তবে সেজন্য ভিন্ন পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত আমরা।
ইত্তেফাক/আনিসুর