অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান তৈরির লক্ষ্যে ২ হাজার ২৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘প্রতি জেলা/উপজেলায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলার ৩৫৪টি উপজেলায় ৫ তলা বিশিষ্ট ৫৩২টি ভবনে ৮ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। চলতি বছর শুরু হয়ে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রতিটি ইউনিট বা ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ৯৮২ বর্গফুট।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি সংশোধিত। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের লোকদের আবাসন সুবিধা দেয়া হবে। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা এ সুবিধা হতে বঞ্চিত থেকে যান। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা সকলেই বয়োজ্যেষ্ঠ এবং উপার্জনক্ষম না হওয়ায় তাদের পক্ষে ভাড়া, খরিদ বা এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় তৈরি হবে বহুতল আবাসিক ভবন। ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে।
সভায় ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ’ প্রকল্প, ৩০১ কোটি টাকা ব্যয়ে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি (সিভিডিপি) তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প, ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়) প্রকল্প, ৬২৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেট বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সমপ্রসারণের লক্ষ্যে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নতুন ১২-তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু