সুদানে বেসামরিক সরকার গঠনে চাপে সেনাবাহিনী

উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে চাপে পড়েছে সেনাবাহিনী। দ্রুত এই পদক্ষেপ না নিলে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আরো কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে। এরই মধ্যে সামরিক কাউন্সিল সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের শাসনামলের  গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করেছে। খবর ডেইলি মেইল ও বিবিসির

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সাবেক ওমরের ঘনিষ্ঠ সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তারা খার্তুমে সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরের সামনে অবস্থান অব্যাহত রেখেছে। প্রয়োজনে দেশের আরো স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা সুদানিজ প্রফেশনালিজ এসোসিয়েশন (এসপিএ)। গতকাল সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়। বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তায় স্থাপন করা কয়েকটি ব্যারিকেড ভেঙে দিতে দেখা যায় তাদের। এই সময় বিক্ষোভকারীরা ‘স্বাধীনতা এবং অভ্যুত্থান’ শীর্ষক স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীদের বাধায় সেনাবাহিনী ব্যারিকেড ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।

এসপিএ এক বিবৃতিতে অভ্যুত্থানকে সফল করতে সবাইকে সেনা দপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়েছে। কোনোভাবেই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না উল্লেখ করেছে। রবিবার বিক্ষোভকারীদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে সামরিক কাউন্সিল। সরকার জানিয়েছে, সাবেক সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেই সম্পর্কে কাউন্সিল কিছু জানায়নি। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের সরানো হবে না। বরং বিক্ষোভকারীদের দাবি মানাটাই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং নরওয়ে বেসামরিক সরকার গঠনে সামরিক কাউন্সিলের প্রতি আহবান জানিয়েছে। দেশগুলোর প্রতিনিধিরা সামরিক কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করে বিক্ষোভকারীদের দমন না করতে এবং তাদের দাবি মনে নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।