বেরোবিতে ভর্তিকালীন জামানত ফেরত পেতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে ভর্তিকালীন জামানতের টাকা ফেরত পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী। প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই জামানত ফেরত পেতে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। এতে অনেকেই জামানত ফেরত না নিয়েই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়।
 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ভর্তির সময় জামানত হিসেবে ফেরতযোগ্য একটি নির্দিষ্ট ফি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের সনদ ওঠানোর পর সেই ফি ফেরত দেয়া হয়।
 
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, জামানত তোলার আবেদন করার কমপক্ষে ২ মাস পর জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। যেহেতু সার্টিফিকেটের কপি ছাড়া জামানতের টাকা উত্তোলনের আবেদন করা যায় না, তাই সবাই সার্টিফিকেট পাওয়ার পর জামানতের টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ২ মাসের আগে টাকা পাওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদনকারী শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কাউকে জামানতের টাকা দেয় না। আবার আবেদন করার সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে টাকা তুলতে হয়। এতে, শুধু জামানতের টাকা উত্তোলনের জন্য ২ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে হয় শিক্ষার্থীদের। অধিকাংশ শিক্ষার্থী মাস্টার্স পরীক্ষার পর ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। কেউ কেউ রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করে। সনদ পেলে অনেকেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। যারা চলে যায় তাদেরকে জামানতের টাকার দ্বিগুণ টাকা খরচ করে এসে টাকা উত্তোলন করতে হয়।
 
শিক্ষার্থীরা বলেন, 'যদি সার্টিফিকেটের সাথে টাকার সমন্বয় করা হয় তাহলে এ ভোগান্তি থাকবে না। এছাড়া, কেউ ক্যাম্পাস থেকে চলে গেলে প্রয়োজনীয় কাগজ জমা নিয়ে শিক্ষার্থী মনোনীত অন্য কাউকে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে উপকৃত হবে তারা।'
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামানতের ৭শ' বা ১ হাজার টাকা ফেরত চেয়ে শিক্ষার্থীদের করা আবেদন পত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তর, রেজিস্ট্রার দপ্তর, অ্যাকাউন্স শাখা, অর্থ দপ্তর, অডিট শাখা, একাডেমিক শাখাসহ প্রায় ডজন খানেক দপ্তরে চালাচালির পর তা চেকের জন্য প্রস্তুত হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই অন্তত একমাস সময় লাগে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ। তবে, সেই আবেদনপত্র এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যেতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয় বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।
 
জানা যায়, জামানতের টাকা ওঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যুক্ত করে প্রথমে একাডেমিক শাখায় আবেদন করতে হয়। সেখানে একজনের আবেদনের উপর কোন কাজ হয় না। ২০ জনের অধিক আবেদন করলে তা অ্যাকাউন্স শাখায় পাঠানো হয়। এতে ১ম ধাপ অতিক্রম করতেই প্রায় এক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। অ্যাকাউন্সে আবেদনের উপর নোটশিট তৈরি করতে সময় লাগে আরও বেশ কিছুদিন। সেখান থেকে অডিট শাখা, এরপর রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে উপাচার্যের দপ্তর হয়ে আবার অ্যাকাউন্স। এতে দুই মাসের অধিক সময় লেগে যায়। আবার, অনেক সময় আবেদনকারী খোঁজ না রাখলে ফাইলের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দপ্তরগুলোতে থাকে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা জানায়, কেউ জামানতের টাকা নিতে চাইলে তাকে অন্তত ১৫ দিন প্রশাসনিক ভবনে হাটতে হয়। অনেকেই বিরক্ত হয়ে এ টাকার কথা ভুলেই যান।
 
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লালন চন্দ্র সিংহ জানান, জামানতের টাকা ফেরত পেতে তাকে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, 'প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি জটিল করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।' জামানত ফেরতের প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান তিনি।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইবরাহীম কবীর বলেন, 'সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে কথা বলে জামানতের প্রক্রিয়াটি সহজ করা হবে।'
 
ইত্তেফাক/এসএস