তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ যে বিস্ময়কর উন্নয়ন অর্জন করেছে তা বিশ্ব গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। সোমবার বিকালে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকারের আমন্ত্রণে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও উত্তর আমেরিকা থেকে আগত ২৫টি দেশের ৪৭ জন গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। আমরা বিশ্বে মিঠা পানির মাছ ও সবজি উত্পাদনে ৪র্থ ও আলু উত্পাদনে ৭ম। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য গতিশীল নেতৃত্বে ২০০৮ সালের ৬শত ডলারের মাথাপিছু আয় তিনগুণ বেড়ে এখন প্রায় ২ হাজার ডলার, রপ্তানি ১০ মিলিয়ন থেকে আজ ৪২ মিলিয়ন ডলার, মানুষের গড় আয়ু ৬৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২.৮ বছর। মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সকল সূচকে আমরা পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক দেশ থেকে এগিয়ে আছি।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদার নীতির কারণে বাংলাদেশে গত দশ বছরে গণমাধ্যম স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারই দেশে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। জাতীয় প্রেসকাবে ৩১ তলা বিশিষ্ট ভবন এবং বহুমুখী তথ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছে, প্রেস ইনস্টিটিউটে পেশাগত প্রশিক্ষণের সাথে চালু করেছে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ডিগ্রী।’ সফররত সাংবাদিকবৃন্দ বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপনে অংশ নেয়াসহ দেশ ঘুরে দেখবেন এবং এদেশের বিস্ময়কর অগ্রগতির কথা তাদের লেখনী ও সম্প্রচারে তুলে ধরবেন বলে আশাপ্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। এসময় বিদেশি সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি।
তথ্যসচিব আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য অফিসার জয়নাল আবেদীন, সফর সমন্বয়ক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহি:প্রচার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মাসুদুর রহমান এবং তথ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করছেন।