১৭ বছর পূর্বে মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় এম.ভি নাসরিন-১ লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পেছনে কর্তৃপক্ষের অবহেলা চরমভাবে দায়ী বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, নৌ-যানসূমহ আইন কানুন মেনে চলে কিনা তা তদারকির কাজে নিয়োজিত থাকে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান ও নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। তাদের গাফিলতির কারণেই ওই নৌ-যান ডুবির ফলে যাত্রীরা নিহত, নিখোঁজ ও আহত হন। যা তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। ফলে এম. ভি নাসরিন লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, সমুদ্র পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা নদী বন্দরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ একক ও যৌথভাবে দায়ী। বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন। পাশাপাশি নৌ-যান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসূমহকে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানে নিম্ন আদালতের দেয়া রায়ও বহাল রেখেছেন।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে এ রায় প্রকাশ করা হয়। ১৩৩ পৃষ্ঠার এ রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক শেখ মো. জাকির হোসেন। রায়ে বলা হয়, মৃত্যু ব্যক্তির জীবনের ক্ষতিপূরণ নির্ধারনের কোন মাপকাঠি নেই। সেই ক্ষেত্রে বিরাজমান পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ হয়ে থাকে।
রায়ে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালের ৮ জুলাই রাত ১১ টায় চাঁদপুরের মেঘনা ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় এম.ভি নাসরিন-১ ডুবে যায়। ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইন, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বোঝাই, লঞ্চটির নিরাপত্তার মান প্রয়োজনীয় ন্যূনতম নিরাপত্তা মানের কম হওয়া, মাস্টারের অদক্ষতাই ওই লঞ্চ ডুবির কারন।
এম.ভি নাসরিন দূর্ঘটনায় ১১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হয় ১৯৯ জন যাত্রী। জীবিত উদ্ধার করা হয় ২৩০ জনকে। এদের অনেকেই আহত ছিলো। জেলা প্রশাসকের তালিকা অনুযায়ী ৩৬৭ জন একক ব্যক্তিকে ১৫ হাজার এবং ৭০টি যৌথ পরিবারকে ২০ হাজার টকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। কিন্তু ওই ক্ষতিপূরণ অপ্রতুল দাবি করে ২০০৪ সালে ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে নিহতদের পরিবারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ মামলা করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। এ মামলায় ২৮ কোটি ৯৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়।
ঢাকার ৭ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক রায়ে ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থদের পরিবারকে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা দিতে বিআইডব্লিউটিএসহ সকল বিবাদীদেরকে নির্দেশ দেয়। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করেন বিবাদীরা। হাইকোর্ট গত বছরের ৫ জুন ওই রিভিশন খারিজ করে দেয়।
ইত্তেফাক/এমআই