মু. ফারহান
কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে চাকরি জীবন শুরু হয় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে প্রোগ্রামার হিসেবে। ভালো কিছু করার টার্গেট ছিল ছোটবেলা থেকেই। সে হিসেবে প্রাইভেট কোম্পানিতে সন্তুষ্ট না হতে পারায় এবং বড় ভাই ডা. অনুপম মজুমদারের অনুপ্রেরণায় ঠিক করেন সিভিল সার্ভিসেই যাবেন। একবার অংশগ্রহণ করেই পেয়ে যান সফলতা। ৩৭তম বিসিএসে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, বলছিলাম এদেরই একজনের কথা; যার নাম নিরুপম মজুমদার। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট চরপার্বতী গ্রামের রেবতী মোহন মজুমদার ও শৈবলনী মজুমদার দম্পতির ছোট ছেলে। পেশায় দর্জি হওয়ায় সংসার চালাতে বাবাকে হিমশিম খেতে হয়েছে প্রতিনিয়ত। তিন ভাইবোনের পড়াশোনার পেছনে মামার আর্থিক সহযোহিতা থাকায় পড়ালেখায় বেঘাত ঘটেনি কখনো। বড় ভাই অনুপম মজুমদার ডাক্তারি পড়াশোনা শেষ করে ২৫তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে পরিবারের হাল ধরেন। বাবামা ফিরে পায় কিছুটা স্বস্তির জীবন। তখন থেকেই বড় ভাই নিরুপমের পড়াশোনার ভার নেন। স্কুল জীবনে সব ক্লাসেই ছিলেন ফার্স্টবয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর থেকে ব্যাচে ছাত্র পড়াতেন আর বড় ভাইয়ের সহযোগিতাতো আছেই, তা নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিতর্ক করতেন এবং জড়িত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে। প্রথম শ্রেণি পেয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে মাস্টার্সে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটিতে।
স্নাতক শেষে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে প্রোগ্রামার হিসেবে যোগদেন। বড় ভাই ডা. অনুপম মজুমদারের অনুপ্রেরণায় প্রচণ্ড ইচ্ছা জাগে সিভিল সার্ভিসে আসার। তখন ৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারির জন্য হাতে আছে প্রায় চার মাস। এসময় চাকরি ছেড়ে দেন এবং বন্ধুবান্ধবদের থেকে গুটিয়ে নেন নিজেকে। পুরোদমে প্রস্তুতি নিতে থাকেন প্রিলিমিনারির জন্য। সকাল ১০টা থেকে রাত ২/৩ টা পর্যন্ত দৈনন্দিন কাজ ছাড়া বাকি সময় টানা পড়াশোনা করতে থাকেন। নিজের প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা থেকে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রস্তুতি শুরুর আগে একটা মাইলফলক ঠিক করে সে অনুযায়ী নিয়মিত পড়তে হবে। সব টপিক বিস্তারিত পড়লে ভাইবাতেও কাজে লাগবে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আগে থেকেই সময় নির্ধারণ করে নিতে হবে। কোনো একটি বিষয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পারলে অন্য বিষয়ের জন্য নির্ধারিত সময় কমিয়ে অসম্পূর্ণ বিষয়টি শেষ করতে হবে।
প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য খুব অল্প সময় পেলেও সে সময় অসুস্থ মায়ের সেবা করার পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয় তাকে। বিসিএস মহাযুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় নিরুপমকে। ভাইবার ঠিক পূর্ব মূহূর্তে অক্টোবরের ২ তারিখে তাদের রেখে না ফেরার দেশে চলে যান জন্মদাত্রী মা শৈবলনী মজুমদার। দুঃখভারাক্রান্ত হূদয় নিয়ে নিরুপম ভাইবার প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে থাকেন। সর্বশেষ ভাইবা দিয়ে নিজের পছন্দের প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। কিন্তু যার কথা চিন্তা করে সব সময় বড় হওয়ার চেষ্টা করে যেতেন সেই মমতাময়ী মা নিরুপমের সফলতা দেখার আগেই চিরবিদায় নিয়ে চলে যান। প্রশাসন ক্যাডারে আসা সম্পর্কে বলেন, দেশ ডিজিটাল হচ্ছে সামনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে তাই ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে প্রশাসনে এসেছি যেন প্রশাসনকে এদিকে এগিয়ে নিতে পারি এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দরিদ্র মানুষদের সহযোগিতা করতে পারি।