৩৬তম বিসিএস ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নন এমন প্রার্থীদের মধ্য থেকে এবার দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদের ফলাফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
গত ১৫ মার্চ নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির পদে ২৮৪ জনকে সুপারিশের পর বৃহস্পতিবার ৯৮৫ জনকে নন-ক্যাডার ২য় শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে ৩৬তম বিসিএস থেকে সর্বমোট ১২৬৯জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা-২০১০ এবং সংশোধিত বিধিমালা-২০১৪ অনুযায়ী ৩৬তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার সংশ্লিষ্টদের নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৯৮৫ জনকে নিয়োগের সুপারিশের মধ্যদিয়ে ৩৬তম বিসিএসের কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ৩৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরো বলেন, সব মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিবদের কাছ থেকে ক্যাডার পদ ছাড়াও নন-ক্যাডার ১ম ও ২য় শ্রেণির শূন্য পদের বিবরণ সংবলিত চাহিদার বিষয়ে সহযোগিতা পেয়েছি। তাছাড়া কর কমিশনের সদস্যরা এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্ঠায় এ বড় সংখ্যক সুপারিশ প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে।
পিএসসি সূত্র জানিয়েছে, নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিতে উল্লেখিত শিক্ষাযোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের ৩৬তম বিসিএস-এ অর্জিত মেধাক্রম ও বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির ভিত্তিতে ২য় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে ৯৮৫ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে কমিশন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে ১ম ও ২য় শ্রেণির পদের অধিযাচন প্রাপ্তি সাপেক্ষে শূন্য পদ পূরণের জন্য বিসিএস এর মেধাক্রম হতে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে পিএসসি। ৩৬তম বিসিএস-এ ক্যাডার পদ প্রাপ্ত নন এমন ৩৩০৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে প্রায় ২৫৬০জন প্রার্থী নন-ক্যাডার ১ম ও ২য় শ্রেণির পদের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রার্থী ৩৫ ও ৩৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়ার পরও এবার আবেদন করেছিলেন।
৩৬তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার ২য় শ্রেণির পদে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ইংরেজি ৭৪, ভৌত বিজ্ঞান ৮৫, ব্যবসা শিক্ষা ৯৬, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা অধিদপ্তরের জেলার ৫৫, মহিলা ডেপুটি জেলার ২৩, খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক ১২০, এনবিআর এর কর পরিদর্শক ৪৬টিসহ মোট ১২৬৯টি ২য় শ্রেণির পদের জন্য সুপারিশ করে ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। সরকারি কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইট www.bpsc.gov.bd থেকে ফলাফল জানা যাচ্ছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ থাকার পরও কেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করা হলো না-জানতে চাইলে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছার উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদগুলো উপজেলা ভিত্তিক। সংশ্লিষ্ট্ উপজেলার শূন্য পদের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রার্থীর সুপারিশ করার নিয়ম। এছাড়া নারী ও পুরুষ কোটা রয়েছে। এসব কারণে এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে মাত্র ৩০৩ জনকে সুপারিশ করা সম্ভব হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি