বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জেলায় জেলায় হাওয়া ভবন হতো : হাছান মাহমুদ

বিএনপি যদি ক্ষমতায় থাকতো তাহলে এতোদিনে দেশের প্রতিটি জেলায় হাওয়া ভবন তৈরি হতো বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ।  
 
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্বাধীনতা হলে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ আয়োজিত '২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণা আজ সময়ের দাবি' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। 
 
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে বিদ্যুতের খাম্বা আরো বিস্তৃত হতো, দেশের মানুষ তারেক রহমান এবং বিএনপি নেতাদের হিংস্র থাবার শিকার হতো, আরও একুশে আগস্টের মতো ঘটনা ঘটতো, আরো অনেক সংসদ সদস্য হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হতো, দেশ আফ্রিকা, সিরিয়া, আফগানিস্তান যে পর্যায়ে আছে বিএনপি যদি ক্ষমতায় থাকতো দেশ সেই পর্যায়ে চলে যেতো। 
 
বিএনপি নেতাদের উদ্দ্যেশ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আপনারা যে প্রচণ্ড ঈর্ষাপরায়ন হয়েছেন সেটিও লুকিয়ে রাখতে আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কেনো এতো উন্নয়ন হলো, কেনো বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলো এজন্য যে আপনাদের গাঁ শির শির করছে এবং প্রচণ্ড প্রতিহিংসা হচ্ছে এটি আপনারা (বিএনপি) লুকিয়ে রাখতেও ব্যর্থ হয়েছেন। 
 
বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হতে মাথাপিছু আয় কত প্রয়োজন? মানুষের গড়আয়ুর কি রকম উন্নয়ন  প্রয়োজন? অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কি রকম প্রয়োজন? সেগুলো একটু ভাল করে পড়ে দেখুন। শুধুমাত্র মাথাপিছু আয় নয় সমস্ত প্যারামিটার পূর্ণ করার প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। আপনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৫৬০ ডলার আর বর্তমানে তা ১৭০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কেনো এতো উন্নয়ন হলো তা নিয়ে বিএনপি নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তবে বিএনপি যদি ক্ষমতায় থাকতো একটি কাজ বাংলাদেশে হতো । সেটি হচ্ছে হাওয়া ভবন তো আগে ঢাকায় ছিল তখন জেলায় জেলায় হাওয়া ভবন হতো। 
 
বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের ডিমেনশিয়া রোগ হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বার নির্বাচনে জয়ী হয়েই মওদুদ আহমেদ বলছেন আগামী নির্বাচনে বিএনপি ৭৫ শতাংশ ভোট পাবে। এটাই যদি হয় তাহলে নির্বাচনে যেতে আপনাদের ভয় কিসের? যে কারো অধীনে, যে কোন পরিস্থিতিতে আপনারা নির্বাচনে যেতে পারেন। সুতরাং  ৭৫ থেকে ৭ বাদ যাবে নাকি ৫ বাদ যাবে সেটি জনগনই ঠিক করবে আগামী নির্বাচনে। 
 
বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি অফিসের সামনে পুলিশ একটু পানি ছিটালেই তখন আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এই হচ্ছে বিএনপির কঠোর আন্দোলনের নমুনা। আপনারা সরকারের সমালোচনা করুন তবে তা হওয়া উচিৎ গঠনমূলক। সরকারের মাধ্যমে জাতির অর্জনে সরকারকে অভিনন্দন জানাতে আপনাদের লজ্জা লাগলেও দেশ ও জাতিকে অভিনন্দন জানানোর অভ্যাসটা অন্তত আপনারা করুন। 
 
বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন- আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এ্যাড. আসাদুজ্জামান দুর্জয়, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য মিনহাজ উদ্দিন মিন্টু, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুন্সী এবাদুল ইসলাম প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/ইউবি