‘দুর্নীতিবাজরা অনেক বেশি র্ধূত-প্রভাবশালী’

দুর্নীতিবাজরা অনেক ধূর্ত, শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। দুর্নীতিবাজদের ধরতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দুর্নীতিবাজদের ধরা সম্ভব না। এ প্রতিষ্ঠানকে সবাই মিলে সাহায্য সহযোগিতা না করলে এটা অসম্ভব ব্যাপার। দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে দেশকে মুক্ত করতে; দুর্নীতির লাগাম টানতে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ শক্ত অবস্থান নিতে হবে। সোমবার সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ’ উদ্বোধন শেষে এ আহ্বান জানান।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদ মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, জাতির পিতার নের্তৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি জাতিসত্ত্বা তৈরি করতে পেরেছি , রাজনৈতিক এবং ভৌগলিক স্বাধীনতা পেয়েছি। তবে অর্থনৈতিক, সামাজিক,  কুসংস্কার, সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদ, থেকে জাতি এখনও কি পরিপূর্ণ মুক্তি পেয়েছে? তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হচ্ছে, অর্থনৈতিক এই উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে দুর্নীতির লাগাম সম্মিলিতভাবেই টেনে ধরতে হবে। তিনি বলেন, আসুন, আজকের এই পবিত্র দিনে আমরা সবাই দুর্নীতি প্রতিরোধে শপথ নিই।
 
তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজরা ধূর্ত, কখনও কখনও শক্তিশালী আবার প্রভাবশালীও বটে। এদেরকে ধরতে হলে ১০৭৩ জনবলের দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে পুরোপুরি সম্ভব নয়। তাই আসুন, সবাই মিলে দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে দেশের মুক্তিতে ঐক্যবদ্ধ হই। দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তি, সামাজিক শক্তি এবং সংগঠণগুলোর ঐক্যবদ্ধ  শক্তির  দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অঙ্গীকার যদি থাকে, তাহলে উন্নয়নের ধারা যেমন অব্যাহত থাকবে তেমনি-দুর্নীতির লাগামও টেনে ধরা যাবে। তিনি বলেন, আমাদের অনেক সমালোচনা আছে তা আমি জানি, কিন্তু তারপরও আমরা যে কিছু করতে পারি তা দেখিয়ে দিয়েছি। তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া তথা গণমাধ্যমের ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিগত দুই বছরে কমিশনের সকল কার্যক্রমে গণমাধ্যমের দ্ব্যার্থহীন সমর্থন পেয়েছি। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ পালনের মূল উদ্দেশ্য  হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
 
সাংবাদিকগণের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, যে ইচ্ছা মতো যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এটি আইন দ্বারা সৃষ্ট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। এই প্রতিষ্ঠানের সকল সিদ্ধান্ত তথ্য-উপাত্ত, যুক্তি-প্রতিযুক্তি, আইন-কানুন বিচার-বিশ্লেষণ করে নেওয়া হয়। কমিশনের যে কোনো মামলার রায় হওয়ার পর কমিশনের প্রচলিত প্রথা অনুসারে কমিশনের প্রসিকিউটরগণ আইন অনুবিভাগের মাধ্যমে যে সকল মতামত দেন, তা বিচার-বিশ্লেষণ করে আইন অনুবিভাগ কমিশনে উপস্থাপন করেন। তা দেখেই কমিশন স্দ্ধিান্ত নেয়। এটি প্রচলিত প্রথা। এক্ষেত্রেও কমিশন এই প্রথার  কোনো ব্যত্যয় ঘটায়নি।
প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও ‌'দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৮' (২৬ মার্চ থেকে ০১ এপ্রিল) উদ্যাপন করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ‌'বন্ধ হলে দুর্নীতি, উন্নয়নে আসবে গতি' এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সোমবার সকালে সাড়ে ৮টায় কমিশনের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গনে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন  উড়িয়ে প্রতিরোধ সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এর আগে জাতীয় পতাকা এবং কমিশনের পতাকা উত্তোলন করেন দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদ্বয়। 
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কমিশনা ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. জাফর ইকবাল, প্রতিরোধ (আইন) মো. মঈদুল ইসলাম, মহাপরিচালক (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মো. জয়নুল বারী, মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং) মো. আতিকুর রহমান খান, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দুদক কর্মকর্তারা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
 
ইত্তেফাক/এমআই