চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে আসায় ছাত্রদল নেতা-কর্মীদেরকে মারধর করেছে ছাত্রলীগের একাংশ। সোমবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে চবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতিসহ চার জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম, যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বিজ্ঞান অনুষদের আহ্বায়ক নাজমুল হোসাইন ও কলা অনুষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ।
মারধরকারীরা শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
জানা যায়, স্বাধীনতা স্মৃতি ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে জড়ো হয়। তাদের জড়ো হবার খবর শুনে ছাত্রলীগ নেতা মাসুম ও রাফির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছাত্রদল সভাপতিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ারও অভিযোগ উঠে। তাকে উদ্ধার করতে গেলে ঘটনাস্থলে আরও ৩ ছাত্রদল নেতা মারধরের শিকার হন।
এ বিষয়ে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার মাসে এ হামলা করার মাধ্যমে তারা শুধু ছাত্রদলকে নয় স্বাধীনতার চেতনার উপর হামলা করল। আর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের মাধমে ছাত্র রাজনীতিকে যে তারা কত নীচে নামিয়েছে তারা প্রমাণ করল। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে যারা এমন সন্ত্রাসী হামলা যারা চালিয়েছে তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।
এদিকে চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করতে ক্যাম্পাসে নাশকতা করতে ছাত্রদল আসে। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীরা ছাত্রদলের নাশকতা বন্ধ করতে তাদের প্রতিহত করে।
এ বিষয়ে চবি প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ঘটনা শোনার সাথে সাথে আমরা পুলিশ প্রশাসন পাঠাই এবং তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে আমরা এখনও লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি।
ইত্তেফাক/কেআই