শ্যামাসুন্দরী এখন রংপুরের অভিশাপ!

রংপুর শহরের প্রাণ বলে খ্যাত শ্যামাসুন্দরী খাল এখন শহরবাসীর কাছে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। শ্যামাসুন্দরী নদী না খাল তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে! তবে এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে, দখলে-দূষণে শ্যামাসুন্দরী এখন ধুঁকছে। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্যামাসুন্দরীকে নদী বললেও অত্যুক্তি হবে না! যদিও নগরবাসীর কাছে এটি খাল (নদী) নামে পরিচিত। রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন নালা-নর্দমার লাইন গিয়ে মিশেছে এই শ্যামাসুন্দরী খালে। এছাড়া আশেপাশের বাসাবাড়ির আবর্জনা-বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এখানে। এভাবে ধীরে ধীরে খালটিকে ভাগাড় বানানো হয়েছে! আবার বাসাবাড়ির টয়লেটের লাইন জুড়ে দেওয়া হয়েছে এই খালে! এককথায়, রংপুরের আশীর্বাদের খাল এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।

কয়েক বছর আগেও শ্যামাসুন্দরী খাল এমন ছিল না। পুরো বছর ধরেই এখানে পানির প্রবাহ থাকত। মাছ পাওয়া যেত। মানুষজন নদীতে গোসল করত। কিন্তু শুকনো মৌসুমে শ্যামাসুন্দরী খালে এখন পানি থাকে না। কারণ এর উত্সমুখ ঘাঘট নদ থাকে পানিশূন্য। শ্যামাসুন্দরী খালের বিভিন্ন অংশ দখলের কারণে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আশেপাশের অন্যান্য নদী-খালের সঙ্গে যুক্ত থাকায় শ্যামাসুন্দরীর বর্জ্য-আবর্জনা সেসব জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

খালটির সংস্কার ও সৌন্দর্য বাড়াতে ২০১২ সালে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু শ্যামাসুন্দরীর উন্নয়ন নয়, সংস্কার কাজে জড়িতদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে বেশি! অথচ নগরের পানি নিষ্কাশন, পরিবেশ রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও মশার অত্যাচার থেকে বাঁচতে খালটিকে অচিরেই রক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সাধন সরকার, ৫/এ নারিন্দা লেন, নারিন্দা, সূত্রাপুর, ঢাকা