পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির নামে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যের 'অবমাননা'

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির নামে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যের অবমাননা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৫ মার্চ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে রাবির 'সাবাস বাংলাদেশ' ভাস্কর্যের বেদির উপরে দাঁড়িয়ে ঝাড়ু হাতে কোটা বিরোধী স্লোগান দেয় ও সমাবেশ করে আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার জন্যই এমন কর্মসূচি বলে অভিযোগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় গলায় সনদ ঝুলিয়ে সাদা টি-শার্ট গায়ে ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির নামে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে 'সাবাস বাংলাদেশ' ভাস্কর্যে গিয়ে সমাবেশ করে। এসময় তারা ভাস্কর্যের বেদিতে উঠে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ করে।
 
এ বিষয়ে নাট্যব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, 'যদি তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে সত্যিই ঝাড়ু মিছিল করে থাকেন, তাহলে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের চরম অবমাননা করেছেন। কারণ, ৫৬% কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা আছেন। আর একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করা মানে, স্বাধীনতাকে অপমান করা। আর সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্যের সামনে যখন ঝাড়ু মিছিল করে তখন ঝাড়ুটা কোথায় মারা হচ্ছে? স্বাধীনতা বিরোধীদের কেউ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এর ইন্ধন যোগাচ্ছে। তাই আন্দোলনকারীদের আরও সচেতন হতে হবে।'
 
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ বকুল তার ফেসবুক পেজে লেখেন, 'এই ঝাড়ু কি আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অমর শহীদদের দেখানো হচ্ছে? না হলে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্যের দিকে ঝাড়ু তাক করা কেন?'
 
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, 'কোটা সংস্কারের নামে যদি মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করা হয়, তাহলে সেটা বরদাস্ত করা হবে না। এর পেছনে অবশ্যই কোন ইন্ধনদাতা আছে, যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে কোনও পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।'
 
এ বিষয়ে রাবি প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, 'শিক্ষার্থীরা আমাকে মোবাইলে কল দিয়ে বলেছিল তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করবে। কোনো আন্দোলন করবে না এমন শর্তে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়। তারা মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যের অবমাননা করেছে কিনা আমার জানা নেই।'
 
জানতে চাইলে এই আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ মুন্নাফ বলেন, 'আমরা ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা করছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল সাবাস বাংলাদেশ মাঠ পরিষ্কার করে কর্মসূচি শেষ করা। কিন্তু ভাস্কর্যের  সামনে ঝাড়ু হাতে যেটা হয়েছে সেটা আমাদের কমিটির সিদ্ধান্ত নয়। কয়েকজন অতিউৎসাহী সাধারণ শিক্ষার্থী এটা করেছে। আমাদের একটু মিস ম্যানেজমেন্টের কারণেই এটা হয়েছে। আমরা ভুল শিকার করছি এবং এর জন্যে আমরা সত্যিই দুঃখিত। আমাদের এরকম কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।'
 
ইত্তেফাক/এসএস