আসছে বাজেট ২০১৯-২০

শর্তছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিহ্যাব

ফ্ল্যাট নিবন্ধনের কর অত্যধিক হওয়ায় এ খাতে নিবন্ধন কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। এর ফলে এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে আবাসন খাতের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। অন্যদিকে পুরাতন ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ে নতুন ফ্ল্যাটের ন্যায় নিবন্ধন ব্যয় হওয়ায় ক্রেতারা আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে এ খাতের একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠতে পারছে না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ওই আলোচনায় রিহ্যাব ছাড়াও বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ), বাংলাদেশ স্টেইনলেস স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ফ্ল্যাট এবং জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরে নিবন্ধন ব্যয় ১৪ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশ হয়েছে, যা মাত্রাতিরিক্ত। একই সাথে পুরাতন ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে পুনরায় নতুন ফ্ল্যাটের সমান নিবন্ধন ব্যয় করতে হয়, যা অযৌক্তিক। তিনি নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি নামমাত্র নিবন্ধন ব্যয় নির্ধারণ করে সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থার প্রচলন করারও দাবি জানান।

এছাড়া গৃহায়নশিল্পের উদ্যোক্তাদের আয়কর হ্রাস এবং অর্থপাচার রোধ কল্পে কোনো শর্ত ছাড়া আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এ সময় রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, এনবিআর এবং রিহ্যাব এর একটি যৌথ কমিটি হয়েছিল। ওই কমিটি যে সুপারিশ করেছে তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ফ্ল্যাটের বিদ্যমান নিবন্ধন ব্যয় অনেক বেশি বলে স্বীকার করে তা কমানোর আশ্বাস দেন। এ জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং আইন মন্ত্রণালয়ে শিগগিরই চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক হবে না বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এখন যে পদ্ধতিতে বিও অ্যাকাউন্ট খোলা যায় ভবিষ্যতেও সেই একই পদ্ধতিতে খোলা যাবে। বিও একাউন্ট খুলতে ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা বাজেটে সকল প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে চাই। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বেশি সুবিধা পাবে আবার কেউ সুবিধা পাবে না সেটা আমরা হতে দেব না।