ভারতে প্রধান বিচারপতিকে অপসারণে একট্টা বিরোধীরা

 

ভারতে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রকে অপসারণে একজোট হয়েছে বিরোধী দলগুলো। এর নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। বাম দল ও সমাজবাদী পার্টির সমর্থনও মিলেছে। এর মাধ্যমে বিরোধীরা ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 
ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) মজিদ মেমন জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই ২০ জনের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়েছে। কংগ্রেসের গুলাম নবী আজাদ, কপিল সিবাল, আহমেদ প্যাটেল স্বাক্ষর করেছেন। এনসিপি থেকে আরো ৫ জন স্বাক্ষর করবেন বলে জানা গেছে।
 
মজিদ মেমন মঙ্গলবার জানান, কংগ্রেসই প্রথম অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করে। সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতা ডিপি ত্রিপাঠী জানান, প্রধান বিচারপতির অপসারণের বিষয়ে যে খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে তাতে আমি স্বাক্ষর করেছি। সিপিআই (এম) এবং সিপিআইও স্বাক্ষর করেছে। সব বিরোধী দলের সদস্যরাই সাক্ষর করেছেন বলে তিনি জানান।
 
সমাজবাদী পার্টির নেতা ঘনশ্যাম তিওয়ারি জানান, দল এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। কারণ বিচারব্যবস্থায় স্বাধীনতাও প্রশ্নাতীত অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে। গত কয়েকদিনে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলো প্রধান বিচারপতিকে অপসারণের বিষয়ে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।
 
ভারতের সংবিধানের ১২৪ (৪) অনুচ্ছেদে প্রধান বিচারপতিকে অপসারণের বিধি উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, অপসারণে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা থেকে ১০০ জন এমপির এবং উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার ৫০ জন এমপির স্বাক্ষর আবশ্যক। এই প্রস্তাব পার্লামেন্টের স্পিকার বা চেয়ারম্যান গ্রহণও করতে পারেন, আবার প্রত্যাখ্যানও করতে পারেন। গ্রহণ করলে তিনি সিনিয়র বিচারপতিকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করবেন। এই কমিটি যদি তদন্ত করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পায় তাহলে সেটি লোকসভা এবং রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করাতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট প্রধান বিচারপতিকে অপসারণ করবেন।
 
চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের চার সিনিয়র বিচারপতি সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির কড়া সমালোচনা করেছিলেন। বিচারপতি চিলামেশ্বর, রঞ্জন গগৈ, কুরিয়ান জোসেফ এবং মদন বি লোকুর প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র শীর্ষ আদালতের নিয়মকানুন মানছেন না। যে কোনো মামলা যে কোনো বেঞ্চে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। ফলে মামলা নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে। খবর এনডিটিভি’র
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ