নেয়ামত উল্লাহ
আবাহনী আজ বুধবার ঢাকায় অতিথি মিনার্ভা পাঞ্জাবকে হারিয়ে এএফসি কাপের নকআউটে ওঠার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে চায়। প্রতিযোগিতার ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চেন্নাইয়িন এফসিকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী মিনার্ভাও জানিয়েছে তারা আবাহনীর বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে।
বেশ কিছুদিন ধরেই জয়ের ধারায় আছে আবাহনী। গেল ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে শেখ রাসেলের কাছে হারার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতেছে কোচ মারিও লেমোসের দল। জয়গুলো এসেছে মোহামেডান, সাইফ স্পোর্টিং, মানাং মারশিয়াংদী, চট্টগ্রাম আবাহনী ও শেখ জামালের বিপক্ষে। আবাহনীর পর্তুগীজ কোচ তাই এই ধারা ধরে রাখতে চান।
স্বাগতিক কোচ লেমোস গতকাল মঙ্গলবার বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এই ম্যাচের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, ‘শেখ জামালের সঙ্গে কঠিন ম্যাচটির পরপরই অনুশীলনে নামতে হয়েছে আমাদের। এই স্বল্প সময়ে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ফিরিয়ে আনাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। তবে এখন আমাদের খেলোয়াড়রা ম্যাচের জন্যে সম্পূর্ণ তৈরি। ম্যাচে তিন পয়েন্টের জন্যেই নামবো আমরা।’
দুই ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা ও নাবিব নওয়াজ জীবন দারুণ ছন্দে আছেন। পিছিয়ে নেই আরেক ফরোয়ার্ড কার্ভেন্স বেলফোর্টও। এছাড়াও আছেন এএফসি কাপের প্রথম ম্যাচের মধ্য দিয়ে আবাহনীতে যোগ দেওয়া ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড ওয়েলিংটন প্রিওরি। মধ্যবর্তী দলবদলে প্রিমিয়ার লিগের জন্যেও তাকে নিবন্ধন করিয়ে নেবে আবাহনী। সব মিলিয়ে আক্রমণভাগই বড় ভরসা বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নদের।
লেমোস জানান তার আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা দারুণ আত্মবিশ্বাসী। শেষ পাঁচ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন এরা। এই ম্যাচেও তীব্রতা নিয়েই খেলতে হবে তাদের।
মিনার্ভা পাঞ্জাব রক্ষণে থাকা দুই বিদেশি কারিম ওমোলাজা ও রবার্ট প্রাইমাসকে নিয়েও বিশেষ ছক কষেছেন লেমোস। তিনি বলেন, ‘তারা রক্ষণাত্মকভাবে খুব ভালো দল। কারিম আর রবার্টের উচ্চতা তাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। আমরা যদি লম্বা বলে গোল করার চেষ্টা করি তবে নিশ্চিতভাবেই গোল পাবো না। তাই মাঠের অন্য অঞ্চল দিয়ে আক্রমণ করতে হবে আমাদের। এই দুইজনকে এড়ানোর অন্য উপায় ভেবে রেখেছি আমরা। যদি তা করে দেখাতে পারি তবে কাল জয়ের পথ পরিষ্কার হবে আমাদের।’
এদিকে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই চেন্নাইয়িনকে তাদের মাঠে রুখে দিয়েছিল বলে দারুণ আত্মবিশ্বাসী মিনার্ভা। আবাহনীর বিপক্ষে এবার তিন পয়েন্টের লক্ষ্যেই নামছে কোচ শচীন বাড়দের দল। তিনি বলেন, ‘আমরা দারুণ আত্মবিশ্বাসী। ছেলেরা মনোযোগী এবং এই ম্যাচের জন্যে কঠোর পরিশ্রম করছে।’
শচীন জানালেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আবাহনীর বিপক্ষে জেতার লক্ষ্য মোটেও অলীক কিছু নয়। মানাং মারশিয়াংদীর বিপক্ষেও আবাহনী শ্রেয়তর প্রতিপক্ষ ছিলো না বলে দাবি করেন এই কোচ। তিনি জানান সেই ম্যাচের পারফর্মেন্সকে মাথায় রেখেই আবাহনী-বধের কৌশল তৈরি করেছেন। শচীন বলেন, ‘তারা (আবাহনী) ভালোই খেলেছে। তবে সত্যি বলতে আমি মনে করি, নেপালের দলটি আরও ভালো খেলেছিলো। তারা সুযোগ সৃষ্টি করেছিলো, আবাহনীকে বিপদে ফেলছিলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের খুব ভালোভাবে বিশ্লেষণ করেছি। তাদের প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রকৃতি সম্পর্কে জানি আমরা। দলের প্রত্যেককেই তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিন পয়েন্টের জন্যেই লড়বো আমরা।’